একজনের লিঙ্কেজে ৩০০ জন! ভোটার তালিকায় চরম অসঙ্গতি, ধন্দে কমিশন
রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SAR) প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে, কোথাও এক ব্যক্তিকে বাবা হিসেবে দাবি করেছেন ৩০০ জন, আবার কোথাও বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরেরও কম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে এমনই এক ‘অযৌক্তিক অসঙ্গতি’র (Logical Discrepancy) হদিস মিলেছে, যা দেখে কার্যত মাথায় হাত নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের।
তথ্যে পাহাড়প্রমাণ গরমিল
কমিশন সূত্রে খবর, জমা পড়া এনিউমারেশন ফর্মগুলোতে তথ্যের কোনো মিল নেই। ফলতার একটি ফর্মে দেখা যাচ্ছে, ভোটারের বাবার নাম ও পদবির সাথে নিজের কোনো সামঞ্জস্য নেই, এমনকি আত্মীয় হিসেবে যার নাম দেওয়া হয়েছে তার সাথেও কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ভোটারের তথ্যে এই ধরণের ত্রুটি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে:
- ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার নামের পদবির অমিল রয়েছে।
- ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি।
- অনেক ক্ষেত্রে বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর বা তার কম।
কাজ সামলাতে হিমশিম কমিশন
সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’ নিয়ে। কোথাও একজন ব্যক্তিকে ৬০ জন, আবার কোথাও ৩০০ জন নিজেদের অভিভাবক হিসেবে দাবি করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ ত্রুটি খতিয়ে দেখতে হিমশিম খাচ্ছে কমিশন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ৩,৭০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার তাঁদের প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা। তবে ব্যাংক ও বিমা সংস্থাগুলি থেকে এই কর্মী নেওয়ায় স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা
ভোটার তালিকার এই অসঙ্গতি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। বুধবার সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে দলের প্রতিনিধি দল প্রশ্ন তুলেছে, এই ধরণের সমস্যা কেন শুধুমাত্র বাংলাতেই দেখা যাচ্ছে?
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই শুনানি পর্ব শেষ করা কমিশনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্য যাচাইয়ের কাজ কেন জেলা স্তরে সঠিকভাবে হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে দপ্তরের অন্দরে।