চিউইং গামেই কি বাড়বে মনঃসংযোগ? গবেষণায় উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য
খেলার মাঠে বিরাট কোহলি হোক বা রিকি পন্টিং— তারকা ক্রিকেটারদের মুখে প্রায়ই চিউইং গাম দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কাজের চাপে বা উদ্বেগের সময় চিউইং গাম চিবোনোর প্রবণতা রয়েছে। তবে এটি কেবল অভ্যাস নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর বৈজ্ঞানিক কারণ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চিবোনোর এই ছন্দোবদ্ধ প্রক্রিয়া সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।
মস্তিষ্কে ঠিক কী ঘটে?
পোল্যান্ডের শ্চেচিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমআরআই এবং ইইজি-র মতো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, চিবোনোর ফলে মস্তিষ্কের মনোযোগ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। চিবোনোর এই একটানা ছন্দ একজন ব্যক্তিকে মানসিকভাবে সতর্ক রাখে এবং স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
স্ট্রেস কমাতে ও অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক
গবেষকদের মতে, চিবোনোর ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বা ‘কর্টিসল’-এর ক্ষরণ কমে যায়। এর ফলে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা দ্রুত হ্রাস পায়। পাশাপাশি, চোয়ালের অনবরত নাড়াচাড়ার কারণে মাথায় রক্তসঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্কে অক্সিজেনের জোগান বাড়িয়ে দিয়ে মস্তিষ্ককে আরও সজাগ ও পরিষ্কার রাখে।
একঘেয়েমি কাটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ
নর্থউম্বরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টাল হ্যাস্কেল-র্যামসের মতে, দীর্ঘক্ষণ ধরে কোনও একঘেয়ে কাজ করার সময় মনোযোগ ধরে রাখতে চিউইং গাম অত্যন্ত কার্যকর। অনেক ক্ষেত্রে জনসমক্ষে কথা বলার আগে বা মানসিক চাপের মুহূর্তে এটি তাৎক্ষণিক আরাম দেয়।
বিকল্প কী হতে পারে?
চিউইং গামে থাকা কৃত্রিম শর্করা নিয়ে অনেকেরই স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকারিতা আসলে লুকিয়ে আছে চিবোনোর ছন্দের মধ্যে। তাই চিউইং গামের বিকল্প হিসেবে বাদাম বা কোনো ফলের টুকরোও চিবোনো যেতে পারে। এতেও একইভাবে মানসিক একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়।