দালালের খপ্পরে নার্সিংহোমে মৃত্যু তরুণীর

রায়গঞ্জ: সরকারি হাসপাতালের রেফার স্লিপে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘আইসিইউ’ প্রয়োজন। কিন্তু দালালের প্রলোভনে পড়ে অগ্নিদগ্ধ তরুণীকে ভর্তি করা হয়েছিল এমন এক নার্সিংহোমে, যেখানে আইসিইউ পরিষেবাই নেই। বুধবার সকালে রায়গঞ্জের ইন্দিরা কলোনির এক বেসরকারি নার্সিংহোমে ১৯ বছরের তরুণী সারজিনা খাতুনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। চিকিৎসায় গাফিলতি ও দালালচক্রের সক্রিয়তার অভিযোগে সরব হয়েছে মৃতার পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত
ইটাহারের সুরুনের বাসিন্দা সারজিনা খাতুন বাড়িতে আগুন পোহানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হন। রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে পাঁচ দিন চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা বা শিলিগুড়ি রেফার করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউ-তে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে এক দালালের খপ্পরে পড়েন তাঁরা। ভালো চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে ওই দালাল তাঁদের ইন্দিরা কলোনির একটি নার্সিংহোমে পাঠায়।
পরিবারের অভিযোগ
মৃতার আত্মীয়দের দাবি, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সব সুবিধা থাকার কথা বললেও সারজিনাকে জেনারেল বেডে রাখা হয়। বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিজনরা। তাঁদের অভিযোগ, আইসিইউ ছাড়াই কেন রোগীকে ভর্তি নেওয়া হলো? প্রতিবাদ জানালে উল্টে তাঁদের মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।
কর্তৃপক্ষের সাফাই
নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, রোগীর পরিবারই আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়েছিল। চিকিৎসক অরূপকুমার দত্ত জানান, তরুণীর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। অন্যদিকে, রায়গঞ্জ মেডিক্যালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায় জানিয়েছেন, হাসপাতাল চত্বরে দালালচক্র রুখতে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাসও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।