আইপ্যাক মামলা: সুপ্রিম কোর্টে আজ মমতা-ইডি দ্বৈরথ

আইপ্যাক দপ্তরে তল্লাশি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে উপস্থিতি নিয়ে আইনি লড়াই এবার দেশের শীর্ষ আদালতে। আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের করেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের অবস্থান
সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক অফিস এবং সংস্থাটির কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির অভিযানের সময় আচমকাই সেখানে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযোগ, এর ফলে তাদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি ছিল ভোটের রণকৌশল সংক্রান্ত নথি চুরি করতেই এই বেআইনি তল্লাশি।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। তবে ইডির আইনজীবী এস ভি রাজু জানান, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে, তাই হাইকোর্টে শুনানি আপাতত স্থগিত রাখা হোক। এরপরই বিচারপতি আইপ্যাক সংক্রান্ত তৃণমূলের মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেন এবং ইডির দায়ের করা মামলার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
আদালতের সওয়াল-জবাব
- ইডির দাবি: তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত হয়ে তথ্য ও নথি বাজেয়াপ্ত করেছেন। তারা আরও জানায়, তল্লাশির সময় কোনো ‘সংবেদনশীল’ তথ্য নেওয়া হয়নি।
- তৃণমূলের পালটা: তৃণমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী প্রশ্ন তোলেন, গত ৬ বছর কিছু না করে ভোটের ঠিক আগেই কেন এই অতিসক্রিয়তা? তাদের অভিযোগ, ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে।
- কেন্দ্রের অবস্থান: কেন্দ্রের আইনজীবীরা দাবি করেন, এখনো ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়নি, অথচ তৃণমূল একে ভোটের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। আইপ্যাক কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নয় যে সেখানে যাওয়া যাবে না।
আজ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। এই লড়াইয়ের ফলাফল আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির কার্যকারিতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।