জিকে: কোন ভারতীয় শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি?

জিকে: কোন ভারতীয় শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি?

ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক মানচিত্রে বারাণসী বা কাশী কেবল একটি শহর নয়, বরং এটি হাজার বছরের সভ্যতার এক জীবন্ত দলিল। বিশ্বের প্রাচীনতম জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম এই শহরটি আজও তার স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য এই শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্বের মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

৩০০০ বছরের প্রাচীন সভ্যতা

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভগবান শিবের ত্রিশূলের ওপর অবস্থিত এই শহরটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিরিখেও অত্যন্ত প্রাচীন। প্রায় ৩০০০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের বসবাস রয়েছে, যা একে বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত শহরের মর্যাদা দিয়েছে।

আধ্যাত্মিকতার প্রবেশদ্বার

হিন্দুধর্মের ‘সপ্তপুরী’ বা সাতটি পবিত্র শহরের অন্যতম হলো এই কাশী। বিশ্বাস করা হয়, এখানে প্রাণত্যাগ করলে মোক্ষ লাভ হয়। গঙ্গার পাড়ে অবস্থিত এই শহরের সুউচ্চ ঘাট এবং সান্ধ্যকালীন ‘গঙ্গা আরতি’ ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক অনন্য পরিচয় বহন করে।

জ্ঞান ও শিক্ষার পীঠস্থান

প্রাচীনকাল থেকেই বারাণসী সংস্কৃত চর্চা, দর্শন এবং শাস্ত্রীয় শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য প্রতিষ্ঠিত ‘বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়’ (BHU) আজও এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থাপত্য ও ধর্মীয় সংহতি

বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম ‘কাশী বিশ্বনাথ মন্দির’ এই শহরের প্রধান আকর্ষণ। বহু চড়াই-উতরাই ও পুনর্নির্মাণের সাক্ষী এই মন্দিরটি ভারতের অটুট বিশ্বাসের প্রতীক। এছাড়া নিকটস্থ সারনাথে গৌতম বুদ্ধ তাঁর প্রথম বাণী প্রচার করেছিলেন, যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।

সংস্কৃতি ও শিল্পকলা

বারাণসীর পরিচয় আসাম্পূর্ণ থেকে যায় এখানকার জগতবিখ্যাত ‘বানারসি সিল্ক’ বা শাড়ি ছাড়া। মুঘল আমল থেকে শুরু করে আজ অবধি এই হস্তশিল্পের কদর বিশ্বজুড়ে। পাশাপাশি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ‘বানারস ঘরানা’ এবং কবীর, তুলসীদাস ও মুন্সি প্রেমচাঁদের মতো প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের হাত ধরে এই শহর ভারতের শিল্প-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *