লাদাখে বড় জয় ভারতের: ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ফিরল টহলদারির অধিকার

লাদাখে বড় জয় ভারতের: ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ফিরল টহলদারির অধিকার

পূর্ব লাদাখের দেপসাং এবং ডেমচক অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ভারত এক বিশাল কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য অর্জন করেছে। বিগত কয়েক বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী পুনরায় তার হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছে।

ফিরে এল টহলদারির অধিকার

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবরের ঐতিহাসিক চুক্তির পর প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরায় ভারতের টহলদারি এখতিয়ারে এসেছে। ২০১২ সাল থেকে এই বিশাল অঞ্চলে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। এটি কেবল ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার নয়, বরং সীমান্তে ভারতের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

পশুপালকদের জন্য সুখবর

সীমান্তে চারণভূমি হারানোর যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে চুশুল ও ডেমচকের স্থানীয় পশুপালকরা কোনো বাধা ছাড়াই তাদের গবাদি পশু চরাতে পারছেন। মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে পশুপালকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চীনের মানচিত্র বিতর্ক ও ভারতের কড়া জবাব

সীমান্তে শান্তি প্রক্রিয়া চললেও চীন তাদের পুরনো অভ্যাস অনুযায়ী অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “শুধু কাল্পনিক মানচিত্র এঁকে কোনো দেশের সীমানা পরিবর্তন করা যায় না।”

কূটনৈতিক রণকৌশল: ‘গুড কপ, ব্যাড কপ’

চীনকে সামলাতে ভারত এক বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর আন্তর্জাতিক মহলে চীনের আগ্রাসী রূপ তুলে ধরছেন (ব্যাড কপ), অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল পর্দার আড়ালে আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথ প্রশস্ত করছেন (গুড কপ)। কোনো বিদেশি শক্তির উসকানিতে পা না দিয়ে ভারত তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

উন্নয়নের পথে ভারত

শাকসাগাম উপত্যকায় চীনের অবৈধ নির্মাণকাজের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। সমালোচকদের উত্তর দিয়ে ভারত আজ সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমে চীনকে যোগ্য জবাব দিচ্ছে। ১৯৬২-র অতীত ভুলে ভারত এখন এক নতুন এবং শক্তিশালী সীমান্ত নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *