পরমাণু বোমার চেয়েও ভয়ঙ্কর! আমেরিকার শ্বাসরোধ করতে তৈরি ইউরোপ

নিউ ইয়র্ক: গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্ব এখন এক চরম সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। এই লড়াইয়ে ইউরোপ আমেরিকার বিরুদ্ধে এমন এক ‘আর্থিক মারণাস্ত্র’ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পরমাণু বোমার চেয়েও বিধ্বংসী হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
ইউরোপের হাতে থাকা ‘আর্থিক অস্ত্র’
ইউরোপীয় দেশগুলোর হাতে বর্তমানে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার (১০ লক্ষ কোটি ডলার) মূল্যের মার্কিন সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার সরকারি বন্ড এবং নামী দামী সংস্থাগুলোর শেয়ার। ডয়চে ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞ জর্জ সারাভেলোসের মতে, ইউরোপ যদি একযোগে এই সম্পদ বাজারে বিক্রি করা শুরু করে, তবে তা আমেরিকার জন্য একটি “আর্থিক পারমাণবিক বিস্ফোরণ”-এর মতো হবে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধস নামবে, তা সামলানো কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
১. ডলারের পতন: বাজারে ডলারের জোগান হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এর চাহিদা ও মূল্য তলানিতে ঠেকবে।
২. সুদের হারের উল্লম্ফন: মার্কিন বন্ডের ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ঋণের বোঝা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
৩. শেয়ার বাজারে ধস: আমেরিকার শেয়ার বাজারে ঐতিহাসিক ধস নামবে এবং ডলারের তুলনায় ইউরো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
কৌশলের জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা
তবে এই আর্থিক যুদ্ধ চালানো ইউরোপের জন্য খুব একটা সহজ হবে না। কারণ, আমেরিকার এই বিশাল সম্পদের সিংহভাগই রয়েছে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, ব্যাঙ্ক এবং বিমা সংস্থাগুলোর হাতে। সরকার চাইলেই তাদের শেয়ার বা বন্ড বিক্রিতে বাধ্য করতে পারে না। এছাড়া, আচমকা এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিক্রি করলে ইউরোপের নিজস্ব পেনশন ফান্ডগুলোও বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পাল্টা কৌশল
গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ভয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ডেনিশ পেনশন ফান্ড ডলারের বিনিয়োগ কমিয়ে সোনায় লগ্নি শুরু করেছে। তবে সরাসরি সম্পদ বিক্রির চেয়ে ইউরোপ এখন আমেরিকার প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক বসিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা ভাবছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম পর্যায়ে না পৌঁছালে ইউরোপ এখনই এই চরম পদক্ষেপ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতাই দেশগুলোর কাছে প্রধান অগ্রাধিকার।