ঘন ঘন অসুস্থতায় ভোগেন? সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় কী রাখবেন, জানালেন পুষ্টিবিদ- ১ঝলক

ঘন ঘন অসুস্থতায় ভোগেন? সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় কী রাখবেন, জানালেন পুষ্টিবিদ- ১ঝলক

ঋতু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সর্দি-কাশিতে কম বেশি সবাই আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে ঠান্ডা-সর্দি সেরে যাওয়ার পর পুনরায় আবারও কাশি এবং সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। অর্থাৎ, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং শরীরে প্রবেশকারী ভাইরাস শনাক্ত করতে কালক্ষেপণ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জিংকের ঘাটতি থাকা।

জিংক শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে বুস্ট করে সর্দি-কাশি প্রতিরোধ, ত্বক পুনর্গঠন, ইনজুরি ও অপারেশনের পর ক্ষত সারাতে, খাবারের স্বাদের অনুভূতি আনতে, হরমোনের কার্যকারিতায়-ইনসুলিন, থাইরয়েড ও সেক্সুয়াল হরমোনসমূহের ফাংশন ঠিক রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ছাড়াও শিশুদের বর্ধন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।

তবে উল্লেখিত সমস্যাগুলোয় ভুগলে প্রাথমিকভাবে বুঝে নিতে হবে―জিংকের ঘাটতি রয়েছে। ঘন ঘন অসুস্থতায় খাদ্যতালিকায় কী রাখতে হবে, এ ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ওয়ারীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং সাভারের হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা।

এ পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন, ডিম, ছোলা, মসুর ডাল, গরুর মাংস ও কলিজা, কুমড়ার বীজ, তিল ও সূর্যমুখীর বীজ এবং ছোট মাছ জিংকের ঘাটতি পূরণের জন্য ভালো উৎস। প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষের দৈনিক প্রায় ১০-১২ mg, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের দৈনিক প্রায় ৮-১০ mg এবং গর্ভবতী মায়েদের দৈনিক প্রায় ১১-১৩ mg জিংক প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সারাদিনের মধ্যে জিংকের চাহিদা নিশ্চিত করতে হাফ কাপ ছোলা, এক কাপ ঘন ডাল, ১ টেবিল চামচ কুমড়ার বীজ, ১ টেবিল চামচ তিল ও সূর্যমুখীর বীজ, ১-২টা ডিম এবং ১-২ পিস মাছ বা মাংস রাখলে গড়ে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়। এছাড়াও সপ্তাহে দুইদিন হাফ কাপ থেকে এক কাপ করে কলিজা গ্রহণ করুন।

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা বলেন—

জিংকের পাশাপাশি নিয়মিত টক ফল, যেমন- আমড়া, পেয়ারা, আমলকী, মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা অর্থাৎ ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফলমূল খেতে হবে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ আছে কিনা নিশ্চিত করতে ভিটামিন ডি টেস্ট করে নেয়া উচিত। নিয়মিত কোয়ালিটি প্রোটিন নিশ্চিত হচ্ছে কিনা ডায়েটে সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এছাড়াও এ পুষ্টিবিদ বলেন, যদি বারবার অসুস্থতা লেগে থাকে, সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে চাইলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে পারসনালাইজড ব্যালেন্সড ডায়েটপ্ল্যান করে নিতে পারেন। যা আপনাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *