নাক বন্ধ ও প্রাকৃতিকভাবে সাইনাসের ব্যথা এবং চাপ কমানোর উপায়- ১ঝলক

নাক বন্ধ ও প্রাকৃতিকভাবে সাইনাসের ব্যথা এবং চাপ কমানোর উপায়- ১ঝলক

ঋতু পরিবর্তনের সময় নাক বন্ধ হওয়া ও সাইনাসে শ্লেষ্মা জমে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এর ফলে মাথাব্যথা, মুখে চাপ, ভারি অনুভূতি ও শ্বাস নিতে অস্বস্তি দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হল সাইনাসের ভেতরে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যাওয়া, যা স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জটিল চিকিৎসা বা অস্বস্তিকর পদ্ধতির পরিবর্তে কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঘরোয়া প্রতিকারেই এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উপশম মিলতে পারে।

কেন নাক বন্ধ হয়?

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাইনাসের ভেতরে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে গেলে তা বের হতে বাঁধা পায়। এর ফলে সাইনাসে চাপ তৈরি হয়, ভারী ভাব আসে এবং শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

যদিও নেটি পটের মতো কিছু যন্ত্র এক্ষেত্রে কার্যকর, তবে অনেকেই এগুলো ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করেন। তাই বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিকার হিসেবে নিরাপদ ও সহজ বিকল্পের ওপর জোর দিচ্ছেন।

বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত ৬টি ঘরোয়া প্রতিকার-

১. পর্যাপ্ত জল পান করুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রেশনই প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বেশি জল ও তরল গ্রহণ করলে শ্লেষ্মা পাতলা হয়, ফলে সাইনাস স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারে। এতে নাক বন্ধ হওয়া ও অস্বস্তি অনেকটাই কমে।

২. গরম ভাপ নিন

গরম জলর ভাপ নিলে নাকের পথ আর্দ্র হয় এবং ঘন শ্লেষ্মা আলগা হতে সাহায্য করে। গরম জলতে স্নান করলেও একই উপকার পাওয়া যায়। এটি সাময়িক হলেও দ্রুত আরাম দেয়।

৩. উষ্ণ সেঁক দিন

নাক, গাল ও কপালে উষ্ণ, স্যাঁতসেঁতে তোয়ালে রাখলে ফোলাভাব ও চাপ কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণতা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শ্বাস নেওয়া সহজ করে।

৪. মাথা উঁচু করে ঘুমান

ঘুমের সময় অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করে মাথা উঁচু রাখলে শ্লেষ্মা সহজে নিচের দিকে নেমে যায়। এতে সকালে নাক বন্ধ থাকা কমে এবং ঘুমও ভালো হয়।

৫. ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখুন

শুষ্ক বাতাস নাকের ভেতরের ঝিল্লি শুষ্ক ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা সাইনাসের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৬. হালকা ফেসিয়াল ম্যাসাজ করুন

নাক ও কপালের চারপাশে আলতো ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চাপ কমে। যদিও এটি সাময়িক, তবে দ্রুত আরাম দিতে কার্যকর।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে?

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি নাক বন্ধ থাকা বা সাইনাসের সমস্যা ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া জ্বর, তীব্র মুখের ব্যথা, ফোলাভাব বা দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *