সাবধান! আপনার ফোনে এই ৪টি জিনিস থাকলে পুলিশ কড়া নাড়তে পারে আপনার দরজায়!

আজকের আধুনিক বিশ্বে স্মার্টফোন কেবল একটি ফোন নয়; এটি আমাদের ব্যাংক, অফিস, ক্যামেরা এবং ব্যক্তিগত ডায়েরিতে পরিণত হয়েছে। তবে আপনি কি জানেন যে আপনার হাতের এই ফোনটিই আপনার শত্রুতে পরিণত হতে পারে?
আপনার করা একটি ছোট ভুল বা নিছক মজার ছলে সেভ করে রাখা একটি ছবি আপনাকে জেল খাটাতে পারে। আপনার ফোনে কোন কোন জিনিস থাকা উচিত নয়? কোন বিষয়গুলো আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে? দেখে নিন এই প্রতিবেদনে।
১. অশ্লীল এবং অবৈধ ভিডিও:
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, শিশু পর্নোগ্রাফি (Child Pornography) দেখা, সেভ করা বা অন্যকে পাঠানো একটি জামিন অযোগ্য অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। “কেউ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছে, আমি দেখিনি”—এই অজুহাত আইনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আপনার ফোনে এই ধরনের ফাইল পাওয়া গেলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই আপনাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
২. জাল নথি এবং হ্যাকিং সফটওয়্যার:
অননুমোদিত আইডি কার্ড, জাল আধার কার্ড বা অন্যের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ফোনে রাখা আইনত অপরাধ। অনলাইনে টাকা আয়ের লোভে ডাউনলোড করা কিছু ‘Hacking Tools’ আপনাকে অপরাধী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট।
৩. গুজব এবং উসকানিমূলক বার্তা:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় দাঙ্গা উসকে দিতে পারে বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে অপমান করে—এমন মেসেজ ফরোয়ার্ড করবেন না। গুজব ছড়ানো ‘সাইবার টেররিজম’-এর আওতায় পড়ে। বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো তথ্য আপনার ফোনে থাকলে তা দেশদ্রোহিতার মামলা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
৪. নিষিদ্ধ এবং ‘স্পাই’ অ্যাপস:
সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ অ্যাপ বা অন্যের ফোনে আড়ি পাতার জন্য ব্যবহৃত ‘Spyware’ অ্যাপ ফোনে রাখা আপনাকে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে। এছাড়া, কিছু লোন অ্যাপ আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। অপরিচিত কারো পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করে কোনো অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।
পুলিশি ঝামেলা এড়াতে যা করবেন:
- তৎক্ষণাৎ ডিলিট করুন: আপনার ফোনে কোনো অবৈধ ভিডিও বা মেসেজ এলে তা সাথে সাথে ডিলিট করুন। খেয়াল রাখবেন যেন তা গুগল ড্রাইভ বা ক্লাউড ব্যাকআপে সেভ হয়ে না থাকে।
- অটো-ডাউনলোড বন্ধ রাখুন: অপরিচিতদের পাঠানো ছবি বা ভিডিও যাতে নিজে থেকে ডাউনলোড না হয়, সেজন্য হোয়াটসঅ্যাপের ‘Media Auto-download’ ফিচারটি বন্ধ করে দিন।
- নিরাপত্তা বাড়ান: হোয়াটসঅ্যাপে “Disappearing Messages” ফিচার ব্যবহার করা এবং ‘2-Step Verification’ অন রাখা আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
- সতর্ক থাকুন: মনে রাখবেন, সাইবার পুলিশের কাছে আপনার ডিলিট করা ডেটা রিকভার করার প্রযুক্তি রয়েছে। তাই নিছক মজার জন্যও কোনো আপত্তিকর বিষয় শেয়ার করবেন না।