খনিজ সম্পদ লুঠের অভিযোগে উত্তাল গিলগিট-বাল্টিস্তান, পাক ফৌজকে এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি স্থানীয়দের

খনিজ সম্পদ লুঠের অভিযোগে উত্তাল গিলগিট-বাল্টিস্তান, পাক ফৌজকে এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি স্থানীয়দের

গিলগিট-বাল্টিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ এবং বিদেশি সংস্থাগুলোর হাতে তা তুলে দেওয়ার অভিযোগে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ভারতের এই বিতর্কিত অংশ। পাকিস্তান সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ এবার সরাসরি পাক ফৌজকে এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই উপত্যকার মানুষের একাংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ভারতের সঙ্গে সাংবিধানিক ভাবে যুক্ত হওয়ার জোরালো সওয়াল করেছেন।

কেন ফুঁসছে গিলগিট-বাল্টিস্তান?

ইনস্টিটিউট ফর গিলগিট-বাল্টিস্তান স্টাডিজের প্রধান সেং সেরিংয়ের সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, পাকিস্তান সরকার এই অঞ্চলের সোনা, তামা এবং অত্যন্ত দুর্লভ ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য চিন, আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তানের মতো দেশগুলোর জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনও রকম ক্ষতিপূরণ বা লভ্যাংশ না দিয়েই পাক সেনাবাহিনী এই লুঠতরাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

অধিকার চাইলে জুটছে বঞ্চনা

স্থানীয় বাসিন্দারা যখনই খনিজ সম্পদের ওপর রয়্যালটি বা নিজেদের অধিকার দাবি করছেন, তখনই পাক প্রশাসন ধূর্ত চাল চালছে। তারা এলাকাটিকে ‘বিতর্কিত জম্মু-কাশ্মীরের অংশ’ বলে দেগে দিয়ে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও উপক্ষোর ভাবনা জন্ম নিয়েছে।

খনিজ সম্পদের খনি এই অঞ্চল

গিলগিট-বাল্টিস্তানের টাঙ্গির এবং সংলগ্ন উপত্যকাগুলো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম খনিজ হটস্পট। এখানে মোনাজাইট, ল্যান্থানাম, টাইটানিয়াম এবং থোরিয়ামের মতো অত্যন্ত মূল্যবান মৌল প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। চিনের নজর মূলত এই সম্পদের দিকেই, যা তারা নিজেদের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে চায়।

ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি

পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সেং সেরিং সরাসরি স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার ডাক দিয়েছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তান সরকারের শোষণের হাত থেকে বাঁচতে এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই একমাত্র পথ। এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পাকিস্তান সরকারের অন্দরে চরম অস্বস্তি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত সংঘাত এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা গিলগিট-বাল্টিস্তানের স্থিতিশীলতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *