মদ খাওয়ার পরের দিন কেন এমন হয়? বিজ্ঞানের চোখে হ্যাংওভারের আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

মদ খাওয়ার পরের দিন কেন এমন হয়? বিজ্ঞানের চোখে হ্যাংওভারের আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

মদ খাওয়ার পর ঠিক যখন নেশার ঘোর কাটতে শুরু করে, তখনই শুরু হয় আসল যন্ত্রণা। তীব্র মাথাব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া আর গা গোলানোর মতো অস্বস্তিতে জেরবার হতে হয় অনেককেই। কিন্তু কেন এমন হয়? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, হ্যাংওভারের পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই, বরং শরীরের ভেতরে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু জটিল প্রতিক্রিয়াই এর জন্য দায়ী।

ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা

অ্যালকোহল শরীরে গিয়ে ‘ডাইইউরেটিক’ হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি কিডনিকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব তৈরিতে বাধ্য করে। এর ফলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল এবং প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটস যেমন সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বেরিয়ে যায়। শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়ে, যার ফলে পরের দিন সকালে তীব্র মাথাব্যথা ও প্রচণ্ড তেষ্টা অনুভব হয়।

বিষাক্ত অ্যাসিট্যালডিহাইড

মদ খাওয়ার পর লিভার যখন সেটি ভাঙতে শুরু করে, তখন ‘অ্যাসিট্যালডিহাইড’ নামে একটি যৌগ তৈরি হয়। এটি অ্যালকোহলের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি বিষাক্ত। লিভার যদি দ্রুত এটি শরীর থেকে বের করতে না পারে, তবে ঘাম হওয়া, বমি ভাব এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এটি মূলত শরীরে বিষক্রিয়ার মতোই কাজ করে।

রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া

অ্যালকোহল লিভারের গ্লুকোজ তৈরির ক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার হঠাৎ করে কমে যায়। এই কারণেই হ্যাংওভার চলাকালীন প্রচণ্ড ক্লান্তি, দুর্বলতা, খিটখিটে মেজাজ এমনকি শরীর কাঁপার মতো সমস্যা তৈরি হয়।

পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া

মদ পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে অস্বস্তি তৈরি করে এবং অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে পেট ব্যথা, বমি বা বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। বিশেষ করে যারা খালি পেটে মদ্যপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে।

পরদিন সকালে কেন বেশি খারাপ লাগে?

মজার বিষয় হলো, যখন রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা শূন্যে নেমে আসে, তখনই হ্যাংওভারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বাড়ে। ওই সময়ে শরীর একসাথে ডিহাইড্রেশন, বিষাক্ত টক্সিন, লো ব্লাড সুগার এবং অনিদ্রার ধকল সামলাতে ব্যস্ত থাকে। মূলত শরীরের এই অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের ফলই হলো ওই যন্ত্রণাদায়ক সকাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *