পিন্ডি নয় দিল্লি নয় সবার আগে বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বড় বার্তা দিলেন তারেক রহমান
দুই দশক পর বাংলাদেশের মসনদে ফিরছে বিএনপি। নির্বাচনে জয়ের পর শনিবার ঢাকার সাংবাদিক বৈঠকে ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করলেন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে তুঙ্গে থাকা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকারের কাছে ‘বাংলাদেশের স্বার্থই সবার আগে’। পিন্ডি বা দিল্লি নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নতুন ঢাকা কাজ করবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন খালেদা-পুত্র।
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, “দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ বিএনপি-কে জয়ী করেছে। আজ থেকে আমরা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন।” ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামি-সহ ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, দল-মত-বর্ণ নির্বিশেষে কারও ওপর আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না।
দীর্ঘ ২০ বছর পর দল ক্ষমতায় ফিরলেও মা খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তারেক। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয় বরং বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই হবে তাঁর সরকারের লক্ষ্য। দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ যাই হোক না কেন, তারেক রহমানের এই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।