রান্নার তেলই কি বাড়াচ্ছে হৃদরোগের ঝুঁকি? জানুন সঠিক মাত্রা- ১ঝলক

রান্নার তেলই কি বাড়াচ্ছে হৃদরোগের ঝুঁকি? জানুন সঠিক মাত্রা- ১ঝলক

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে হলে প্রতিদিন কতটা তেল ব্যবহার করা উচিত, কিংবা কোন তেল হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো—এই প্রশ্নগুলো এখন অনেকেরই মাথায় ঘোরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক তেল নির্বাচন এবং পরিমিত ব্যবহার।

আমাদের দৈনন্দিন রান্নায় তেল ছাড়া ভাবাই যায় না। ফোড়ন দেওয়া থেকে শুরু করে ভাজাভুজি—সব ক্ষেত্রেই তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বেশি তেল বা ভুল ধরনের তেল খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই তেলের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

কার্ডিওলজিস্ট ডা. গজিন্দর কুমারান্নার তেলর গোয়েলের মতে, একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩–৪ চা-চামচের বেশি তেল খাওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিলিটার তেলই যথেষ্ট।

এই হিসাবে একজন মানুষের জন্য মাসে প্রায় ৫০০–৬০০ মিলিলিটার তেল নিরাপদ। আর চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে মাসে ২ লিটারের বেশি তেল ব্যবহার না করাই ভালো।

হৃদযন্ত্রের জন্য কোন তেল ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল ও জলপাই তেল—এই তিনটি তুলনামূলকভাবে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে আমাদের দেশের রান্নার ধরন অনুযায়ী সরিষার তেল সবচেয়ে উপযোগী।

কেন সরিষার তেল বেশি উপকারী?

কাঁচা বা অপরিশোধিত সরিষার তেলের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ বেশি তাপে রান্না করলেও এই তেল সহজে পুড়ে যায় না এবং এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই বজায় থাকে। এতে থাকা ভালো ফ্যাট হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

সূর্যমুখী তেলও হৃদরোগীদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে জলপাই তেলের স্মোক পয়েন্ট তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি আমাদের দেশের উচ্চ তাপে রান্নার জন্য খুব একটা উপযোগী নয়।

কেন রিফাইন তেল এড়িয়ে চলা জরুরি?

রিফাইন বা পরিশোধিত তেল তৈরি করা হয় উচ্চ তাপমাত্রা ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় তেলের গুণগত মান নষ্ট হয় এবং কিছু ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের তেল খেলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বেড়ে যায়।

এই অতিরিক্ত কোলেস্টেরলই ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অতিরিক্ত তেল খেলে কী ক্ষতি হয়?

মাঝে মাঝে ভাজাপোড়া খেলে বড় সমস্যা না হলেও নিয়মিত অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে ধমনিতে চর্বি জমে যায়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

প্রতিদিন কতটা তেল নিরাপদ?

প্রতিদিন: ১৫–২০ মিলিলিটার

প্রতি সপ্তাহে: ১০৫–১৪০ মিলিলিটার

প্রতি মাসে: ৫০০–৬০০ মিলিলিটার

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিমাণ একজন সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ।

হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

যাঁরা ইতোমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে তেল গ্রহণের পরিমাণ আরও কম হওয়া উচিত। ডা. গোয়েলের পরামর্শ অনুযায়ী, হৃদরোগীদের জন্য মাসে ৭৫০ মিলিলিটারের বেশি তেল খাওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও জানান, মোট ব্যবহৃত তেলের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরিষার তেল এবং ২০ শতাংশ ঘি বা মাখন রাখলে স্বাদ ও পুষ্টির মধ্যে ভালো ভারসাম্য বজায় থাকে।

সঠিক তেল বেছে নেওয়া এবং তা পরিমিতভাবে ব্যবহার করাই অল্প বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম সহজ উপায়। সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই রান্নার তেলের দিকে বাড়তি নজর দিন।

সূত্র: আজতক বাংলা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *