ই-টিকিট বুকিংয়ে ডিজিটাল দালালরাজের নয়া অধ্যায়! রেলের খতিয়ানে উদ্বেগ বৃদ্ধি

ই-টিকিট বুকিংয়ে ডিজিটাল দালালরাজের নয়া অধ্যায়! রেলের খতিয়ানে উদ্বেগ বৃদ্ধি

ডিজিটাল দালালরাজ! মোদি জমানায় কি রেলে জালিয়াতির নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে সারা দেশে? রেলের পরিসংখ্যান ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এই ছ’মাসে ট্রেনের ই-টিকিট বুকিংয়ের প্রায় ৬ হাজার ৪৩ কোটি আবেদন বাতিল করতে হয়েছে মন্ত্রককে। কারণ সেগুলির প্রতিটিই ছিল সন্দেহজনক! অর্থাৎ, অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ‘অটো ফিল’ পদ্ধতিতে ট্রেনের ই-টিকিট বুকিংয়ের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়। সাইবার হানায় ই-টিকিট বুকিং সিস্টেম কবজা করার চেষ্টাও হয়েছিল। সবক্ষেত্রেই ট্রেনের অনলাইন টিকিট বুকিং সিস্টেম পুরোপুরি ধসে যেত।


গত শুক্রবার রাজ্যসভায় এসংক্রান্ত লিখিত প্রশ্ন করেন কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি। ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের জালিয়াতি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি। রাজ্যসভায় ওই প্রশ্নেরই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সার্বিকভাবেই ট্রেনের ই-টিকিট বুকিংয়ের আবেদন বাতিলের পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছেন। দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ই-টিকিট বুকিংয়ের মোট আবেদন এসেছে ৯ হাজার ৭৫৩ কোটি। তার মধ্যে ৬ হাজার ৪৩ কোটি আবেদনই সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে। অর্থাৎ, উল্লিখিত সময়সীমায় ট্রেনের ই-টিকিট বুকিংয়ের যত আবেদন এসেছে, তার প্রায় ৬২ শতাংশই ভুয়ো। ফলে সেগুলি বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘অটো ফিল’ পদ্ধতিতে সবথেকে বেশি ই-টিকিট বুকিংয়ের আবেদন বাতিল হয়েছে গত অক্টোবর মাসে। ১ হাজার ৭০০ কোটি। এই সংখ্যা সবথেকে কম গত জুলাইয়ে। ৫০৩ কোটি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


তবে রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্র সরকার সজাগ রয়েছে বলেই হাজার হাজার কোটি সাইবার জালিয়াতের আবেদন বাতিল করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সাধারণ রেল যাত্রীদের কোনোরকম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়নি। একইসঙ্গে রাজ্যসভায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে যাতে সাইবার হানা না হয়, সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। অনলাইন তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে আধার ভিত্তিক ওটিপি যাচাই প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। এর ফলে ভুয়ো বা অবৈধ এজেন্টদের পক্ষে অনলাইনে ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিং করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি সাইবার হানা রুখতে রেলটেলের মাধ্যমে ডিপ-ডার্ক ওয়েব মনিটরিংয়ের মতো বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেল জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালে আইআরসিটিসির প্রায় ৩ কোটি ৩ লক্ষ সন্দেহজনক ইউজার আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বছর ১২ হাজার ৮১৯টি সন্দেহজনক ই-মেল ডোমেন ব্লক করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *