ট্রেনের ই-টিকিট বুকিংয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি! ৬২ শতাংশ আবেদনই ভুয়ো হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ট্রেনের ই-টিকিট বুকিংয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি! ৬২ শতাংশ আবেদনই ভুয়ো হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

মোদি জমানায় রেলের ই-টিকিট বুকিং কি এখন ডিজিটাল দালালদের দখলে? সম্প্রতি রেলমন্ত্রকের পেশ করা এক পরিসংখ্যান ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এই মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই প্রায় ৬ হাজার ৪৩ কোটি ই-টিকিট বুকিংয়ের আবেদন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে রেল। তদন্তে দেখা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনের প্রতিটিই ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং জালিয়াতির উদ্দেশ্যে করা।

কীভাবে চলছে এই ডিজিটাল জালিয়াতি?

রাজ্যসভায় কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে মোট ৯ হাজার ৭৫৩ কোটি টিকিট বুকিংয়ের আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ আবেদনই ছিল ভুয়ো। মূলত অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ‘অটো ফিল’ পদ্ধতিতে এই টিকিটগুলি বুক করার চেষ্টা চালিয়েছিল সাইবার অপরাধীরা। এমনকি সাইবার হানার মাধ্যমে রেলের গোটা অনলাইন বুকিং সিস্টেমকে ধসিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছিল একাধিকবার।

পরিসংখ্যানের উদ্বেগজনক চিত্র

রেলের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে জালিয়াতির দাপট ছিল সবথেকে বেশি। শুধু ওই এক মাসেই ১ হাজার ৭০০ কোটি ভুয়ো আবেদন বাতিল করা হয়েছে। জুলাই মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫০৩ কোটি। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেলের টিকিটে থাবা বসানোর এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।

রেলমন্ত্রকের পালটা যুক্তি ও সতর্কতা

যদিও রেলমন্ত্রকের দাবি, সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী বলেই এই হাজার হাজার কোটি জালিয়াতির চেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় রেল এখন আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন:

  • অনলাইন তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এখন আধার ভিত্তিক ওটিপি যাচাই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • সাইবার হানা রুখতে ‘ডিপ-ডার্ক ওয়েব মনিটরিং’-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে রেলটেল।
  • ২০২৫ সালেই আইআরসিটিসির প্রায় ৩ কোটি ৩ লক্ষ সন্দেহজনক ইউজার আইডি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
  • ব্লক করা হয়েছে ১২ হাজার ৮১৯টি সন্দেহজনক ই-মেল ডোমেন।

ডিজিটাল দালালরাজ রুখতে রেল প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিলেও, সাধারণ মানুষকেও এখন অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *