ঘুমের অভাবের ৯টি লক্ষণ: যেসব সংকেত অবহেলা করলে বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি- ১ঝলক

ঘুমের অভাবের ৯টি লক্ষণ: যেসব সংকেত অবহেলা করলে বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি- ১ঝলক

ঘুম কেবল শরীরকে বিশ্রাম দেয় না—এটি আমাদের মানসিক স্থিতি, স্মৃতিশক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মূল ভিত্তি। কিন্তু ব্যস্ত সময়সূচি, কাজের চাপ, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং রাতজাগা অভ্যাসের কারণে মানসম্মত ঘুম পাওয়া এখন অনেকের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব শুধু ক্লান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্যের নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।

ঘুমের মান খারাপ হওয়ার লক্ষণ

১. সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙা

যথেষ্ট ও গভীর ঘুম না হলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ও অক্সিজেনের ভারসাম্য ব্যাহত হয়। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

২. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া

ঘুমের সময়ই মস্তিষ্ক তথ্য সংরক্ষণ ও সাজিয়ে রাখে। তাই ছোটখাটো বিষয় বারবার ভুলে যাওয়া বা কাজে মন বসাতে না পারা ঘুমের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

৩. অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধি

ঘুম কম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে মিষ্টি, তেল-চর্বিযুক্ত বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

৪. মেজাজের ওঠানামা

পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য বিষয়েও রাগ, বিরক্তি বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

৫. ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া

ঘুমের সময় ত্বক নিজেকে পুনর্গঠন করে। ঘুমের অভাবে ত্বক শুষ্ক, নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

৬. চাপ সামলাতে অসুবিধা

দৈনন্দিন চাপ মোকাবিলায় মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুম কম হলে ছোট সমস্যাও বড় মনে হয় এবং মানসিক চাপ বেড়ে যায়।

৭. ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগা

অনেকে সময়মতো ঘুমালেও সকালে সতেজ অনুভব করেন না। এর কারণ হতে পারে গভীর ঘুমের ঘাটতি বা ঘুমের ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়া।

৮. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া

ঘুমের ঘাটতি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। ফলে সর্দি-জ্বর বা সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৯. হজমের সমস্যা

অপর্যাপ্ত ঘুম গ্যাস্ট্রিক হরমোন ও অন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে পেট ফোলা, অস্বস্তি বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

ভালো ঘুমের জন্য করণীয়

-প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শুতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

-ঘুমের ৪–৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।

-শোবার ঘর অন্ধকার, নীরব ও আরামদায়ক রাখুন।

-ঘুমের আগে অন্তত এক ঘণ্টা মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমিয়ে দিন।

-ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা হালকা রিল্যাক্সেশন অনুশীলন করতে পারেন।

-সমস্যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভালো ঘুম শুধু বিশ্রামের বিষয় নয়—এটি সুস্থ জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ। তাই ছোট লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে নিজের ঘুমের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।

সূত্র: NDTV

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *