দক্ষিণ ভারতে কি তবে বিজেপির বিজয়রথ থামল? তেলেঙ্গানার পুরভোটে কংগ্রেসের দাপুটে জয়ে রাহুল শিবিরের মুখে হাসি

দক্ষিণের রাজনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তন। মহারাষ্ট্রের সাফল্যের পর যখন বিজেপি আত্মবিশ্বাসে ফুটছিল, ঠিক তখনই তেলেঙ্গানার পুরসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। রাহুলের কংগ্রেসের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল বিরোধীরা।
কংগ্রেসের একক আধিপত্যে কোণঠাসা বিজেপি ও বিআরএস
তেলেঙ্গানার মোট ১১৬টি পুরসভার মধ্যে একাই ৭৯টি দখল করে ম্যাজিক দেখিয়েছে কংগ্রেস। মোট ১৫৩৭টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, রাজ্যের ঘাসফড়িং বা পদ্ম—কোনো শিবিরেরই জমি এখন আর শক্ত নেই। কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল বিআরএস ৭৮১টি ওয়ার্ডে আটকে গেছে, আর বিজেপি মাত্র ৩৩৬টি ওয়ার্ড পেয়ে তৃতীয় স্থানেই রয়ে গিয়েছে।
কেন এই ফল বিজেপির জন্য অশনিসংকেত?
বিগত কয়েক মাস ধরে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার দাবি করে আসছিল যে, তেলেঙ্গানায় বিআরএস-এর জায়গা নিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসছে বিজেপি। কিন্তু ভোটের ফলাফল সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিল। সামনেই তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরির ভোট। তার আগে তেলেঙ্গানার এই ফল বিজেপির ‘দক্ষিণ বিজয়’ অভিযানে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রেবন্ত রেড্ডির প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাহুল গান্ধী
এই বিশাল জয়ে দারুণ খুশি কংগ্রেস হাইকমান্ড। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির কাজের প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী বলেন, “শহর থেকে জেলা—সব জায়গাতেই সাধারণ মানুষ কংগ্রেসের ওপর আস্থা রেখেছেন।” অন্যদিকে, কেরলে কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের শক্ত অবস্থান বিজেপির জন্য কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে এনডিএ ক্ষমতায় থাকলেও সেখানে চন্দ্রবাবু নাইডুর ওপর অতি-নির্ভরশীলতা বিজেপির নিজস্ব শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
দিল্লিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ ভারতকে পাখির চোখ করেই এবার লোকসভা পরবর্তী রণকৌশল সাজাচ্ছে কংগ্রেস।