মোদী সরকারের ‘এআই ফর অল’ লক্ষ্য পূরণে বড় পদক্ষেপ, ভারতে বসছে বিশ্বসেরা টেক জায়ান্টদের মেলা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারত এবার বিশ্বজয়ের পথে। দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলা ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ নিয়ে এখন তুঙ্গে উন্মাদনা। মাইক্রোসফট থেকে জুম, আইবিএম থেকে কিনড্রিল— বিশ্বের তাবড় প্রযুক্তি সংস্থার প্রধানরা একযোগে স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, এআই বিপ্লবে ভারতই এখন পথপ্রদর্শক।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘এআই ফর অল’ বা ‘সবার জন্য এআই’ দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখেই এই মেগা ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সম্মেলন কেবল আলোচনার মঞ্চ নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে এআই-এর বাস্তব প্রভাব নিশ্চিত করার একটি ক্ষেত্র।
গ্লোবাল সাউথের ব্যবধান ঘোচাবে ভারত
মাইক্রোসফটের চিফ রেসপন্সিবল এআই অফিসার নাতাশা ক্র্যাম্পটন এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলো কিছুটা পিছিয়ে আছে। এই ব্যবধান ঘোচাতে ভারতের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শিতার প্রশংসা করে বলেন, মাইক্রোসফট ভারতের এই অগ্রযাত্রায় পাশে থাকতে দায়বদ্ধ।
জনভাগিদারির মাধ্যমে ডিজিটাল বিপ্লব
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ জানিয়েছেন, ভারতের এআই মডেলের মূল ভিত্তি হলো ‘জনভাগিদারি’। এখানে নাগরিকরা কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নন, বরং এই রূপান্তরের সক্রিয় অংশীদার। স্টার্টআপ থেকে শুরু করে কৃষক ও শিক্ষার্থী— প্রত্যেকের কাছে এআই-এর সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
এক নজরে টেক লিডারদের ভাবনা
শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থার কর্ণধাররা এই সম্মেলন নিয়ে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন:
- সন্দীপ প্যাটেল (এমডি, আইবিএম ইন্ডিয়া): ভারতের এআই পরিকাঠামো এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। আইবিএম ভারতের এই পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
- এরিক ইউয়ান (সিইও, জুম): প্রযুক্তি যেন মানুষের সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে দেয় এবং একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র এই যাত্রায় জুম গর্বিত অংশীদার।
- মার্টিন শ্রোটার (সিইও, কিনড্রিল): এআই এখন ব্যবসা পরিচালনার ধরন বদলে দিচ্ছে। সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই অগ্রগতির জন্য এআই এক শক্তিশালী হাতিয়ার হতে চলেছে।
ভারতের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, এআই কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে। দিল্লির এই মেগা সামিট থেকেই নির্ধারিত হবে আগামীর ডিজিটাল বিশ্বের রূপরেখা।