তাইওয়ানের চারপাশে চিনা রণতরী ও যুদ্ধবিমানের মহড়া ঘিরে চরম উত্তেজনা

তাইওয়ানের চারপাশে চিনা রণতরী ও যুদ্ধবিমানের মহড়া ঘিরে চরম উত্তেজনা

তাইওয়ান প্রণালীতে ফের রণংদেহি মেজাজে ধরা দিল বেজিং। রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত তাইওয়ানের আকাশসীমা ও জলভাগের চারপাশে ১১টি চিনা সামরিক বিমান এবং ৮টি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (MND)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, চিনা লাল ফৌজের এই ১১টি বিমানের মধ্যে ৯টিই তাইওয়ান প্রণালীর স্পর্শকাতর ‘মিডিয়ান লাইন’ বা মধ্যরেখা অতিক্রম করে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (ADIZ) অনুপ্রবেশ করেছে। গত শুক্রবার এই সংখ্যাটি আরও উদ্বেগজনক ছিল, যখন ৪২টি চিনা যুদ্ধবিমান এবং ১১টি রণতরী তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলেছিল।

অন্যদিকে, বেজিংয়ের পক্ষ থেকে ফের একবার তাইওয়ানকে চিনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার বা ‘পুনরেকত্রীকরণের’ ডাক দেওয়া হয়েছে। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা ওয়াং হুনিং আধিকারিকদের এই লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (MAC) চিনের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, বেজিংয়ের এই পদক্ষেপ আদতে তাইওয়ানের অস্তিত্ব মুছে ফেলার একটি ষড়যন্ত্র মাত্র।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই তাইওয়ানের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। চিনা আগ্রাসন রুখতে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ‘প্রোটেক্ট তাইওয়ান অ্যাক্ট’ (PROTECT Taiwan Act) অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *