৩০ মিনিটের ব্যবধানে দুবার কেঁপে উঠল মায়ানমার

রবিবার গভীর রাতে মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে জোরালো কম্পন অনুভূত হলো মায়ানমারে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, রাত ১২টা ২৬ মিনিটে প্রথমবার ৩.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে যার উৎসস্থল ছিল ভূগর্ভের ৮০ কিলোমিটার গভীরে। এর ঠিক ২৬ মিনিট পরেই, ১২টা ৫২ মিনিটে আবারও একই মাত্রার কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশটি। তবে দ্বিতীয় দফার এই কম্পনটি মাত্র ২৫ কিলোমিটার গভীরতায় হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনমনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত বেশি বিপজ্জনক হয় কারণ এর তরঙ্গ দ্রুত ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। গত শুক্রবারও মায়ানমারে ২.৮ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল। পর পর এই ছোট ছোট কম্পনগুলো কোনো বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন ভূবিজ্ঞানীরা।
কেন বারবার কাঁপছে মায়ানমার
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মায়ানমার অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। এটি মূলত চারটি টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান, সুন্দা এবং বার্মা প্লেট) সংযোগস্থলে অবস্থিত। বিশেষ করে দেশটির ওপর দিয়ে যাওয়া ১৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সাগাইং ফল্ট’ (Sagaing Fault) এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মায়ানমারের প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ এই ফল্ট লাইনের আশেপাশের শহরগুলোতে বসবাস করেন। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় এবং বাগো-র মতো জনবহুল শহরগুলো সরাসরি এই বিপদের মুখে রয়েছে। ১৯০৩ সালে ৭.০ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে এই অঞ্চলটি বিধ্বস্ত হয়েছিল, যার স্মৃতি আজও বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তোলে।