সাবধান! প্লাস্টিক বোতলের জল কি আপনার শরীরে বিষ ঢালছে? মাদ্রাজ হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক নির্দেশিকা

সাবধান! প্লাস্টিক বোতলের জল কি আপনার শরীরে বিষ ঢালছে? মাদ্রাজ হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক নির্দেশিকা

আপনি কি তেষ্টা মেটাতে দোকান থেকে কেনা প্লাস্টিক বোতলের জল বা প্যাকেটজাত নুন-চিনি ব্যবহার করছেন? তবে এখনই সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্ট এক চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানিতে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-কে এক কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এখন থেকে জলের বোতল এবং নুন-চিনির প্যাকেটের গায়ে স্পষ্টভাবে ‘লাল রঙের হরফে’ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়ে সতর্কবার্তা লিখে দিতে হবে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এন. সতীশ কুমার এবং বিচারপতি ভারত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলাটির বিচার করছেন। আসলে সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিক বোতলের জল এবং প্যাকেটজাত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের মধ্যে মিশে থাকছে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। এমনকি গর্ভবতী মহিলার গর্ভফুলের (Placenta) মধ্যেও এই বিপজ্জনক কণার উপস্থিতি মিলেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কোয়াম্বাটোরের পিএসজি মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এই মাইক্রোপ্লাস্টিকে ‘বিসফেনল এ’ (BPA)-এর মতো মারাত্মক রাসায়নিক থাকে যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য

কেন্দ্রীয় সরকার এবং FSSAI-এর পেশ করা তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত যেমন লখনউ, কোচি এবং পিলানির ল্যাবরেটরিতে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে পরীক্ষা চলছে। হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান এবং কর্ণাটক সহ ৬টি রাজ্যের পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। শুধু জল নয়, প্লাস্টিকের প্যাকেটে বিক্রি হওয়া নুন এবং চিনির মধ্যেও এই বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে।

আদালতের কড়া নির্দেশ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ

আদালতে FSSAI দাবি করেছিল যে, গবেষণা এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং এখনই সতর্কবার্তা দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রাহ্য করেনি। বিচারপতিরা সাফ জানিয়েছেন, মানুষের পাশাপাশি পশুদের শরীরের জন্যও এই মাইক্রোপ্লাস্টিক সমান ক্ষতিকর। আদালতের নির্দেশগুলো হলো নিম্নরূপ:

  • লাল রঙের সতর্কতা: পানীয় জলের বোতল এবং প্যাকেটের গায়ে লাল রঙের হরফে সতর্কবার্তা থাকতে হবে।
  • স্পষ্ট হরফ: এই সতর্কবার্তার ফন্ট সাইজ বা অক্ষরের মাপ অন্তত ১০ পয়েন্ট হতে হবে যাতে তা গ্রাহকের চোখে পড়ে।
  • সময়সীমা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং FSSAI-কে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে হবে।
  • চূড়ান্ত রিপোর্ট: ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিলের মধ্যে এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে জল কেনার আগে বোতলের লেবেলটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। আপনার সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বড় কোনো শারীরিক বিপর্যয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *