নিজের শাশুড়িকেই লালসার শিকার বানিয়ে খুন করল পাষণ্ড জামাই

নিজের শাশুড়িকেই লালসার শিকার বানিয়ে খুন করল পাষণ্ড জামাই

তেলেঙ্গানার নাগারকার্নুল জেলার কালভাকুর্থি এলাকায় এক শিউরে ওঠা অপরাধের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মদ্যপ জামাইয়ের লালসা ও নৃশংসতার বলি হলেন এক বৃদ্ধা শাশুড়ি। অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী নরসিংহ কেবল তার শাশুড়ি মল্লিকাকে ধর্ষণই করেনি, চরম পাশবিকতায় তাঁকে হত্যা করে এলাকা থেকে চম্পট দেয়। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর পারিবারিক অশান্তি ও বিকৃত মানসিকতার চিত্র।

মদের নেশা ও পারিবারিক বিবাদ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর নরসিংহ দীর্ঘদিন ধরেই মদ্যপানে আসক্ত ছিল। নেশার ঘোরে সে প্রায়ই নিজের স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। স্বামীর এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান তার স্ত্রী। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নরসিংহ। প্রায়ই শাশুড়ির বাড়িতে গিয়ে সে অশান্তি করত এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিত।

সুযোগ বুঝে নারকীয় তাণ্ডব

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন নরসিংহের স্ত্রী ও সন্তানরা। বাড়িতে বৃদ্ধা মল্লিকা একাই ছিলেন। এই সুযোগের অপেক্ষায় থাকা নরসিংহ মদ্যপ অবস্থায় সেখানে পৌঁছায়। অভিযোগ অনুযায়ী, শাশুড়িকে একা পেয়ে সে কুপ্রস্তাব দেয় এবং জানায় যে অনেকদিন ধরেই তাঁর ওপর তার নজর ছিল। বৃদ্ধা বাধা দিলেও মদমত্ত নরসিংহ তাঁকে জাপটে ধরে পাশবিক অত্যাচার চালায়। চিৎকার করলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সে নিজের শাশুড়িকেই শ্বাসরোধ করে খুন করে পালিয়ে যায়।

বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য

বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে পরদিন সকালে বাড়ি ফেরেন নিহতের মেয়ে। ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, তাঁর মা রক্তাপ্লুত অবস্থায় নিথর হয়ে মেঝেতে পড়ে আছেন। মায়ের এই বীভৎস দশা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। খবর পেয়ে কালভাকুর্থি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পুলিশের জালে অভিযুক্ত

ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল নরসিংহ। পুলিশ বিশেষ টিম গঠন করে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। জেরার মুখে নিজের অপরাধ কবুল করেছে ওই পাষণ্ড। সে জানিয়েছে, মদের নেশায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *