১৫ বছর আগের চড় খেয়ে পুলিশই হয়ে উঠল একমাত্র টার্গেট, খণ্ডোয়ার এই সিরিয়াল চোরের কীর্তি শুনলে থমকে যাবেন

খণ্ডোয়া: সাধারণ চোরেরা পুলিশের ছায়া দেখলে সাত পা পিছিয়ে যায়, কিন্তু মধ্যপ্রদেশের খণ্ডোয়া জেলার এই চোর একেবারেই উল্টো পথের যাত্রী। সাধারণ মানুষের বাড়ি নয়, এই যুবকের নেশা এবং পেশা ছিল শুধুমাত্র পুলিশকর্মীদের ঘরে সিঁধ কাটা। গত কয়েক বছর ধরে পুলিশের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া এই ‘সিরিয়াল চোর’ অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। তবে তার চুরির পেছনে যে কারণটি সামনে এসেছে, তা কোনো রোমহর্ষক সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
পুলিশ লাইনেই দুঃসাহসিক হানা
সম্প্রতি খণ্ডোয়া পুলিশ লাইনের ভেতরেই দুই কনস্টেবলের সরকারি আবাসে বড়সড় চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া এবং কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা পুলিশ আবাসন থেকে লক্ষাধিক টাকার গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতী। খোদ পুলিশের ঘরেই এমন চুরির ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় জেলা পুলিশ মহলে। তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর এক সন্দেহভাজন যুবকের চেহারা সামনে আসে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে পারেন, এই চোর অত্যন্ত চতুর; প্রতিবার একটি অপরাধ করার পরেই সে জেলা বদলে ফেলত যাতে পুলিশের রাডারে না আসে।
গ্রেফতারি ও নাটকীয় আত্মসমর্পণ
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খণ্ডোয়া পুলিশের একটি বিশেষ দল আলিবাজপুর জেলায় অভিযান চালায়। পুলিশ ঘিরে ফেলেছে বুঝতে পেরে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত। উঁচু ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর সময় সে গুরুতর আহত হয় এবং তার হাত-পা ভেঙে যায়। বর্তমানে পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত প্রতিহিংসার গল্প।
অপমানের বদলা নিতেই এই অদ্ভুত ‘প্রতিজ্ঞা’
জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানায়, কেন সে বেছে বেছে শুধু পুলিশকর্মীদের বাড়িই টার্গেট করত। ঘটনার সূত্রপাত আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে। সেই সময় এক পুলিশকর্মী তাকে জনসমক্ষে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে মারধর ও অপমান করেছিলেন। সেই কিশোর মনে দানা বেঁধেছিল তীব্র ঘৃণা ও প্রতিশোধের আগুন। সেদিনই সে শপথ নিয়েছিল, বড় হয়ে সে শুধু পুলিশদের ঘরেই চুরি করবে এবং তাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।
নিজের এই ‘অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা’ পালন করতে গত কয়েক বছর ধরে সে শুধুমাত্র পুলিশ লাইনের ওপর নজরদারি করত এবং সুযোগ বুঝে কনস্টেবল থেকে শুরু করে পদস্থ আধিকারিকদের বাড়িতে হানা দিত। বর্তমানে পুলিশ এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তবে এই ‘সনকি’ চোরের কাহিনী এখন পুরো মধ্যপ্রদেশ জুড়ে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।