বালির ১৪০ বছরের ইতিহাস শেষ! ভাঙা পড়ছে ঐতিহ্যবাহী কেদারনাথ আরোগ্যভবন

বালির ১৪০ বছরের ইতিহাস শেষ! ভাঙা পড়ছে ঐতিহ্যবাহী কেদারনাথ আরোগ্যভবন

বালি: অবশেষে ভাঙা পড়ছে বালির ঐতিহ্যবাহী কেদারনাথ আরোগ্যভবন। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ১৪০ বছরের প্রাচীন এই হাসপাতাল ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ। শিবপুর আইআইইএসটি-র বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ভবনের কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ায় সংস্কার করা আসাম্ভব ছিল। ফলে তাঁদের পরামর্শ মেনেই ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বালি পুরসভার প্রশাসক তথা স্থানীয় বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই প্রাচীন ভবনের জায়গায় একটি অত্যাধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য এবং পুর ও নগরোন্নয়ন বিভাগে। নীতিগতভাবে সেই প্রস্তাব মঞ্জুর হলেও, বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) ও খরচের খতিয়ান এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সাধারণ মানুষের আবেগ ও স্মৃতি

১৮৮৪ সালে কেদারনাথ মুখোপাধ্যায়ের দান করা জমিতে গড়ে উঠেছিল এই আরোগ্যভবন। দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে বালি, বেলুড়, লিলুয়া, ডানকুনি এমনকি হুগলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে এটি ছিল নির্ভরযোগ্য এক প্রসূতি হাসপাতাল। নামমাত্র খরচে আধুনিক চিকিৎসা, আইসিইউ এবং ইউএসজি পরিষেবার জন্য গরিব মানুষের ভরসাস্থল ছিল এই ভবন।

হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কী?

বর্তমানে হাসপাতালের পুরনো সরঞ্জামগুলি লিলুয়া সিলভার জুবিলি হাসপাতালে সরানো হয়েছে এবং কিছু অংশ পুরসভায় সংরক্ষিত আছে। তবে হাসপাতাল ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মনে আশঙ্কা জেগেছে— তবে কি ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের অস্তিত্বও লোপ পাবে?

এই আশঙ্কার জবাবে বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সবাই নিশ্চিন্ত থাকুন, এখানে হাসপাতালই হবে। আগের চেয়েও উন্নত মানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রসূতি পরিষেবার পাশাপাশি আধুনিক শিশু চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। এটি বালি পুরসভার অধীনেই পরিচালিত হবে।”

বালি জিটি রোডের ওপর প্রায় ৩০ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত এই প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভটি ধুলোয় মিশে গেলেও, সেখানে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বালির বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *