৪৩০ ফুটের হরে কৃষ্ণ টাওয়ার! স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকেও উচ্চতায় টেক্কা দিয়ে হায়দরাবাদে মাথা তুলছে ভারতের এই আশ্চর্য মন্দির

হায়দরাবাদের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পালক। চারমিনার কিংবা বিরিয়ানির শহর হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, এবার আধ্যাত্মিক পর্যটনের মানচিত্রে বিশ্বকে চমকে দিতে প্রস্তুত এই শহর। সেখানে গড়ে উঠছে ভারতের সবচেয়ে উঁচু মন্দির, যার নাম ‘হরে কৃষ্ণ হেরিটেজ টাওয়ার’।
কুতুব মিনার কিংবা স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকেও ছাড়িয়ে যাবে উচ্চতা
স্থাপত্যের নিরিখে এই মন্দির এক কথায় বিস্ময়কর। যেখানে ইতালির পিসার হেলানো টাওয়ার ১৮৭ ফুট, দিল্লির কুতুব মিনার ২৪০ ফুট এবং নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ৩০৫ ফুট উঁচু, সেখানে হায়দরাবাদের এই মন্দিরের উচ্চতা হবে প্রায় ৪৩০ ফুট বা ১২০ মিটার। ছয় একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল কাঠামোটি আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ।
কী কী বিশেষত্ব থাকছে এই মন্দিরে?
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসায়নেস (ইসকন)-এর প্রতিষ্ঠাতা আচার্য এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের স্মৃতিতে এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হচ্ছে। হায়দরাবাদের নরসিংগি এলাকায় নির্মীয়মাণ এই মন্দিরে থাকছে একাধিক আকর্ষণ:
- দেবদেবীর বিগ্রহ: মন্দিরে শ্রীরাধা-কৃষ্ণ ছাড়াও থাকবে নিতাই-গৌরাঙ্গ, সীতা-রাম-লক্ষ্মণ-হনুমান এবং ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর বিগ্রহ।
- নীল চক্রের প্রতিরূপ: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে এই মন্দিরের চূড়াতেও স্থাপন করা হবে বিশাল ‘সুদর্শন চক্র’। এটি তামা, লোহা, দস্তা, রুপো এবং সোনা-সহ আটটি ধাতুর মিশ্রণে তৈরি করা হবে।
- আধুনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: মন্দির চত্বরে শুধু উপাসনা নয়, থাকবে গোরু চারণ ক্ষেত্র (গোশালা), সুসজ্জিত বাগান, লাইব্রেরি এবং শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা প্রদর্শনী কেন্দ্র।
নির্মাণ শৈলী ও অনুপ্রেরণা
মন্দির কমিটির সভাপতি সত্য গৌর চন্দ্র দাসের মতে, এই স্থাপত্যের নকশা তৈরিতে তিরুমালা এবং বৃহদীশ্বর মন্দিরের মতো প্রাচীন ভারতীয় মন্দিরগুলি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। মন্দিরের চেয়ারম্যান মধু পণ্ডিত দাস আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই টাওয়ারটি হায়দরাবাদের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক নিদর্শন হয়ে উঠবে।
২০২৪ সালের অগস্টে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ সাধারণ ভক্তদের জন্য এই মন্দির খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি।