জোম্যাটো ও সুইগির রাজত্ব কি এবার শেষ? ভারতের ফুড ডেলিভারি বাজারে বড় ধামাকা নিয়ে আসছে ফ্লিপকার্ট

ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি জগতে এক বিশাল মহাপ্রলয় ঘটতে চলেছে। ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ই-কমার্স জায়ান্ট ফ্লিপকার্ট এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছে জোম্যাটো এবং সুইগির একাধিপত্যকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের মে বা জুন মাস নাগাদ বেঙ্গালুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিষেবা শুরু করতে পারে ফ্লিপকার্ট। ২০২৬ সালের শেষ অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সারা দেশে এই পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
কেন এই আসাময়ে নতুন লড়াই
সামনেই ফ্লিপকার্টের আইপিও (IPO) আসার কথা রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের ভ্যালুয়েশন বা বাজারমূল্য বাড়াতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে সংস্থাটি। ফুড ডেলিভারির মতো একটি হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করলে ফ্লিপকার্টের নিয়মিত গ্রাহক সংখ্যা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতের ফুড ডেলিভারি বাজারের মূল্য ছিল ৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না ফ্লিপকার্ট।
কোন পথে হাঁটবে ফ্লিপকার্ট
সূত্রের খবর, ফ্লিপকার্ট বর্তমানে দুটি মডেল নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। প্রথমত, ফ্লিপকার্ট অ্যাপের ভেতরেই একটি আলাদা বিভাগ বা সম্পূর্ণ নতুন কোনো অ্যাপ লঞ্চ করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি প্ল্যাটফর্ম ওএনডিসি (ONDC)-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রেতাদের খাবার পৌঁছে দেওয়া।
ফ্লিপকার্টের হাতে বর্তমানে ‘ফ্লিপকার্ট মিনিটস’-এর অধীনে ৮০০টিরও বেশি ডার্ক স্টোর বা গুদাম রয়েছে। এই পরিকাঠামো ব্যবহার করে দ্রুত ডেলিভারি এবং আকর্ষণীয় দামে খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখছে তারা। এর আগে আমাজন এই ব্যবসায় নেমে ব্যর্থ হলেও, ফ্লিপকার্টের এই নতুন প্রচেষ্টা ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি বাজারের সমীকরণ বদলে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।