৪ দেশের ফুলে সেজেছেন মহাকাল! মহাশিবরাত্রিতে ১০ লাখ ভক্তের ভিড়ে অনন্য রূপ নিল উজ্জয়িনী

মহাশিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর বিশ্বখ্যাত শ্রী মহাকালেশ্বর মন্দির। রবিবার ভোররাত ৩টে থেকেই দেবাদিদেব মহাদেবের দর্শনের জন্য মন্দির চত্বরে উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়। প্রশাসনের অনুমান, এবার মহাকালের দরবারে হাজিরা দেবেন ১০ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী। বিশেষ ভস্ম আরতির মাধ্যমেই এই মহোৎসবের সূচনা হয়েছে।
বিদেশি ফুলে সাজানো নটরাজ থিম
এ বছর মহাকাল মন্দিরের সাজসজ্জায় লেগেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। বেঙ্গালুরু থেকে আসা ২০০ জন দক্ষ কারিগর মন্দিরটিকে সাজিয়ে তুলেছেন। সিঙ্গাপুর, হংকং, সুইজারল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়া—এই চার দেশ থেকে আনিয়ে নেওয়া হয়েছে ৪০টিরও বেশি প্রজাতির বিদেশি ফুল। দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত নটরাজ মন্দিরের থিম অনুসারে সাজানো হয়েছে গোটা চত্বর। মন্দিরের গর্ভগৃহ, নন্দী হল এবং প্রবেশপথগুলিতে ফুলের এমন কারুকার্য করা হয়েছে যা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
৪৪ ঘণ্টা বিরতিহীন দর্শন
ভক্তদের বিপুল ভিড় সামলাতে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত টানা ৪৪ ঘণ্টা মন্দির খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রতিদিন ভোরে ভস্ম আরতি হলেও, মহাশিবরাত্রির বিশেষ রীতি অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে ভস্ম আরতি সম্পন্ন হবে। বছরে কেবল এই একবারই দুপুরে এই বিশেষ আচার পালিত হয়।
ভস্ম আরতির মাহাত্ম্য
রবিবার ভোর ৩টেয় মহাকালের পঞ্চামৃত অভিষেকের মাধ্যমে উৎসবের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপরই মহাদেবকে বরের বেশে সাজানো হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই বিশেষ দিনে ভস্ম আরতির দর্শন করলে জীবনের সমস্ত কষ্ট দূর হয়। উজ্জয়িনী প্রশাসনের আধিকারিক রোশন কুমার সিং জানিয়েছেন, নিরাপত্তার জন্য কড়া বন্দোবস্ত করা হয়েছে যাতে পুণ্যার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে দর্শন সারতে পারেন। বর্তমানে গোটা উজ্জয়িনী শহর ‘জয় মহাকাল’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।