ইমরান খানকে নিয়ে চরম নাটকীয়তা, মাঝরাতে জেলের আলো নিভিয়ে সরিয়ে নেওয়া হলো পিটিআই প্রধানকে

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও তীব্র উত্তেজনা। আদিয়ালা জেল থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অত্যন্ত গোপনে কোনো এক অজানা স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির দাবি, সত্তরোর্ধ্ব এই নেতার প্রাণ এখন চরম সংকটে।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পথে ইমরান খান
কারাবন্দি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উদ্বেগ বাড়ছিল। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি সালমান সাফদার জানিয়েছেন, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ (CRVO) নামক এক জটিল সমস্যায় ভুগছেন, যেখানে চোখের রেটিনায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত চিকিৎসা না পেলে তিনি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মাঝরাতের রহস্যময় সেই ‘শিফট’
ইমরান খানের বোন আলিমা খান এবং পিটিআই নেতৃত্বের অভিযোগ, গত রাতে কারাগারের করিডোরের সমস্ত আলো নিভিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ইমরান খানকে হাসপাতাল বা অন্য কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই স্থানান্তরের বিষয়ে তার পরিবার, আইনজীবী বা ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কাউকেই অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। পিটিআই-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এভাবে গোপনে নেতাকে সরিয়ে নেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।”
উত্তপ্ত পাকিস্তান
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু করেছেন ইমরান সমর্থকরা। তাদের দাবি, শওকত খানম হাসপাতালের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মাধ্যমে ইমরানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে ইমরান খানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে স্থানান্তরের এই রহস্যজনক ধরনটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতের কাছে ইমরানের স্বাস্থ্য রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে, তার আগেই এই ঘটনা পাকিস্তানের রাজনীতিকে নতুন করে খাদের কিনারে ঠেলে দিল।