এলিয়েনরা কি সত্যিই লুকিয়ে আছে আমেরিকায়? ওবামার বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব

দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েনদের অস্তিত্ব গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ সরকারি আধিকারিক এই বিষয়ে নীরবতা পালন করলেও, সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ‘আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট’ বা ইউএফও (UFO) নিয়ে ওবামার এই মন্তব্য এলিয়েন নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের জল্পনায় নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
ওবামার সেই রহস্যময় স্বীকারোক্তি
জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য লেট লেট শো’-তে এসে ওবামা সরাসরি স্বীকার করেন যে, এমন কিছু উড়ন্ত বস্তু আকাশে দেখা গেছে যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছেও ব্যাখ্যাতীত। তিনি বলেন, “এলিয়েনদের ব্যাপারে এমন কিছু তথ্য আছে যা আমি অন-এয়ার বলতে পারব না। তবে এটা সত্য যে, আকাশে এমন কিছু বস্তুর ফুটেজ ও রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে যার রহস্য আমরা আজও উদ্ধার করতে পারিনি।” তিনি আরও জানান, ওই বস্তুগুলোর গতিবিধি বা চলাচলের ধরন কোনো চেনা ছকে পড়ে না। যদিও রসিকতা করে তিনি এলিয়েন ল্যাব থাকার কথা অস্বীকার করেছেন, কিন্তু রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর অস্তিত্ব নিয়ে তার এই গম্ভীর স্বীকারোক্তি বিজ্ঞানী এবং গোয়েন্দা মহলে রীতিমতো কম্পন সৃষ্টি করেছে।
এরিয়া ৫১ এবং পেন্টাগনের গোপন নথি
নেভাদার রহস্যময় ‘এরিয়া ৫১’ (Area 51) নিয়ে বহু বছর ধরেই নানা গুজব প্রচলিত। তাত্ত্বিকদের মতে, এই গোপন ঘাঁটিতেই ভেঙে পড়া এলিয়েন মহাকাশযান নিয়ে গবেষণা চালায় আমেরিকা। সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটদের ক্যামেরায় ধরা পড়া বেশ কিছু ভিডিও সম্প্রতি জনসমক্ষে আনা হয়েছে। সেখানে ‘টিক-ট্যাক’ আকৃতির কিছু বস্তুকে এমন সব কসরত করতে দেখা গেছে, যা পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানায়।
প্রাক্তন খোদ কমান্ডর-ইন-চিফ যখন স্বীকার করছেন যে এই বস্তুগুলো বাস্তব এবং এদের উৎস অজানা, তখন ভিনগ্রহের অতিথিদের সম্ভাবনাকে আর উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন বিশ্ববাসীর নজর আমেরিকার সেই গোপন ফাইলগুলোর দিকে, যা হয়তো উন্মোচন করতে পারে মহাবিশ্বের চূড়ান্ত সত্য।