হোলির পরেই রণক্ষেত্র বাংলা! বিধানসভা নির্বাচনের আগে নবান্ন দখলে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা বেজে গিয়েছে। এবারের নির্বাচনে নবান্ন দখলকে পাখির চোখ করে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ঘাসফুল শিবিরকে কড়া টক্কর দিতে মার্চ মাসকেই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বেছে নিয়েছে গেরুয়া বাহিনী। দলীয় সূত্রে খবর, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজ্যের পরীক্ষাগুলো মিটে গেলেই পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দেবে বিজেপি।
৩ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে বিজেপির ‘মহা রথযাত্রা’
আগামী ৩ মার্চ দোল পূর্ণিমা বা হোলির রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গে রথযাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। এই যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি কোণায় পৌঁছাতে চাইছে দল। মূলত নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং মোদী সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোকে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই এই রথযাত্রার মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রথযাত্রা বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় বদল আনতে পারে।
ব্রিগেড চলো! কলকাতায় মোদীর মেগা র্যালি
মার্চের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক বিশাল জনসভা আয়োজনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এর আগে কিছু ছোট জনসভায় ভিড় কম হওয়ার খতিয়ান মাথায় রেখে এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য নেতৃত্ব। ব্রিগেড ছাড়াও উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় সভা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই জোড়া সভা বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রার্থী চয়নে নতুন রণকৌশল এবং সমীক্ষার জোর
এবারের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক থাকতে পারে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একাধিক এজেন্সির মাধ্যমে গোপন সমীক্ষা করিয়েছে। সেই সমীক্ষার রিপোর্টের সঙ্গে জেলা কমিটির সুপারিশ মিলিয়ে তবেই চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হবে। নিচুতলার কর্মীদের মতামতের ওপর এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই দফায় দফায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়ে যেতে পারে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশ হতে চলেছে। এর পরেই নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করতে পারে। তার আগেই বিজেপির এই ‘মেগা প্ল্যান’ বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।