পাল্টে যাবে উত্তরবঙ্গের চেনা ছবি? চা বাগানে এবার মাথা তুলবে আইটি পার্ক আর বিলাসবহুল টাউনশিপ

উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলোর ভবিষ্যৎ কি এবার আমূল বদলে যেতে চলেছে? আলিপুরদুয়ার থেকে জলপাইগুড়ি— ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দেওয়ার মতো এক বিরাট প্রস্তাব জমা পড়ল রাজ্য সরকারের টেবিলে। চা বলয়ের অব্যবহৃত জমিতে এবার কেবল পর্যটন নয়, বরং আইটি পার্ক, লজিস্টিক হাব, স্কুল, কলেজ এবং আধুনিক টাউনশিপ তৈরির দাবি জানালো বাগান মালিকদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘টি-অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (TAI)।
রবিবার জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল ডুয়ার্স ক্লাবে আয়োজিত সংগঠনের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই মেগা পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসএসবি-র ডিআইজি ঋষিকেশ শর্মা, মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি-সহ সংগঠনের শীর্ষ কর্তারা। জলবায়ু পরিবর্তন, পোকার উপদ্রব এবং শ্রমিক সংকটের জেরে ধুঁকতে থাকা চা শিল্পকে বাঁচাতে এই বিকল্প আয়ের পথকেই এখন পাখির চোখ করছেন বাগান মালিকরা।
শুধু পর্যটন নয়, চাই পরিকাঠামো উন্নয়নের পূর্ণ স্বাধীনতা
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শুধু টি-ট্যুরিজম বা চা পর্যটন দিয়ে বর্তমান সংকটের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকার ২০১৯ সালে চা বাগানের ১৫ শতাংশ জমি বিকল্প ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, যা পরে আরও কিছুটা শিথিল করা হয়। কিন্তু আমরা চাইছি বাগান সংলগ্ন যে জমিগুলো চাষের অযোগ্য, সেখানে আমাদের পছন্দমতো বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলার ছাড়পত্র দেওয়া হোক। বীরপাড়ার মতো এলাকায় যদি আইটি পার্ক বা বড় হাউজিং কমপ্লেক্স তৈরি করা যায়, তবে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যাবে।”
কেন এই মরিয়া চেষ্টা?
টি-অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শৈলজা মেহতা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চা শিল্প এখন চরম ঝুঁকির মুখে। উত্তরবঙ্গ শাখার সভাপতি উত্তম চক্রবর্তীও আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিলে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে উত্তরবঙ্গে। এর ফলে স্থানীয় মেধাবী তরুণ-তরুণীদের কাজের সন্ধানে আর ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না; বরং নিজের এলাকাতেই তৈরি হবে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত।
এখন দেখার, নবান্ন এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়ে উত্তরবঙ্গের চা বলয়কে ‘সিলিকন ভ্যালি’ বা ‘স্মার্ট টাউনশিপ’-এ রূপান্তরিত করার পথে হাঁটে কি না।