শিলিগুড়িতে কি তবে গৃহযুদ্ধ? ভোটমুখী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলের চরম গোষ্ঠীসংঘর্ষে জ্বলল দোকান

শিলিগুড়িতে কি তবে গৃহযুদ্ধ? ভোটমুখী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলের চরম গোষ্ঠীসংঘর্ষে জ্বলল দোকান

শিলিগুড়ি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল। উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক দোকান, ঘরছাড়া হয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সহ বহু মানুষ। বালি-পাথর পাচার থেকে শুরু করে সরকারি জমি দখল— দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ ঘিরে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে রক্তক্ষয়ী লড়াই।

দুর্নীতির ভাগ বাঁটোয়ারা নাকি আধিপত্যের লড়াই?

ঘটনার মূলে রয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডল এবং তৃণমূল নেতা তপন বর্মণ ও জ্যোতিষ বর্মণের দীর্ঘদিনের বিবাদ। রাজু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি জবরদখল করে তা সাধারণ মানুষের কাছে বেআইনিভাবে বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, এলাকায় বালি পাচারের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পাল্টা অভিযোগ এনেছে রাজুর গোষ্ঠী। তাঁদের দাবি, জ্যোতিষ বর্মণ ও তপন বর্মণরা দীর্ঘদিন ধরে মহানন্দা নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি ও পাথর উত্তোলন করে কালোবাজারি করছেন। এই বালি-পাথর ব্যবসার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই শনিবার দুপুরে চরমে ওঠে বিবাদ।

রণক্ষেত্র ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি

শনিবারের ঘটনার সূত্রপাত হয় বচসা দিয়ে, যা দ্রুত হাতাহাতি এবং পরে ব্যাপক ভাঙচুরে রূপ নেয়। উন্মত্ত জনতা বেশ কিছু দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়। প্রাণের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা গ্রাম এখন পুরুষশূন্য বললেই চলে।

নির্বাচনের আগে সিঁদুরে মেঘ

বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেখানে বিরোধীদের মোকাবিলা করাই ছিল মূল লক্ষ্য, সেখানে নিজেদের দলের নেতাদের এই ‘কামড়াকামড়ি’ শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের পকেট ভরাতে এবং দুর্নীতির সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতেই বেশি ব্যস্ত স্থানীয় তৃণমূল নেতারা।

শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে জানিয়েছে, যারা এই হিংসার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তবে মাটির তলার বালি আর উপরের জমির ভাগ নিয়ে এই অশান্তি যে ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *