এমএ পাস করেও ১৫০০ টাকার ভাতার লাইনে হাজারো বেকার! নবান্নের প্রকল্পে নাম লেখাতে হুড়োহুড়ি

রাজ্য সরকারের ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের অধীনে বেকার ভাতা পাওয়ার আশায় আজ রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল। নবান্নের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। কিন্তু সেই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়ানো প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।
লাইনে শুধু মাধ্যমিক পাস নয়, ভিড় করেছেন উচ্চশিক্ষিতরাও
এদিন ক্যাম্পে আবেদন জানাতে আসা লাইনে দেখা গেল বিএ, বিএসসি, বিকম এমনকি এমএ পাস করা প্রার্থীদেরও। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের এই বিপুল কর্মক্ষম যুবশক্তির সরকারি ভাতার লাইনে দাঁড়ানো রাজ্যের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতির এক করুণ ছবি তুলে ধরছে। উচ্চশিক্ষিত হয়েও মাত্র দেড় হাজার টাকার সরকারি সাহায্যের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকছেন তারা।
ভাতা না কি চাকরি? কী বলছেন আবেদনকারীরা
কলকাতার ক্যাম্পে আসা এক উচ্চশিক্ষিত যুবতী সরাসরি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আপাতত হাতখরচ হিসেবে এই টাকাটা ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের তো আসলে চাকরি দরকার। সরকার যদি এই ভাতার টাকাই আমাদের বেতন হিসেবে দিয়ে কোনো কাজে নিয়োগ করে, আমরা তাতেই রাজি। ঘরে বসে দয়া নেওয়ার চেয়ে কাজ করে সম্মান নিয়ে বাঁচা অনেক ভালো।”
লাইনের অন্য প্রান্তে থাকা এক এমএ পাস প্রার্থীর কথায়, “বর্তমানে বাজারে যে অগ্নিমূল্য, তাতে ১৫০০ টাকায় কিছুই হয় না। বই কেনা বা যাতায়াত খরচটুকুও এতে ঠিকমতো কুলায় না। তাও কিছু না পাওয়ার চেয়ে এই টাকাটা অনেককে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।”
নবান্নের লক্ষ্য ও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সাহায্য করতেই এই উদ্যোগ। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে থাকা বেকাররা এই আবেদন করতে পারবেন। প্রকল্পের ক্যাম্পগুলিতে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। একদিকে যেমন এই ভাতার মাধ্যমে পকেটে সামান্য কিছু আসার আনন্দ আছে, অন্যদিকে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবকের লাইনে দাঁড়ানো বেকারত্বের এক গভীর যন্ত্রণাকেও প্রকট করে তুলেছে।