মোদী নন তারেকের শপথে ঢাকা যাচ্ছেন ওম বিড়লা, দিল্লির এই বড় সিদ্ধান্তে কোন সমীকরণের ইঙ্গিত

মোদী নন তারেকের শপথে ঢাকা যাচ্ছেন ওম বিড়লা, দিল্লির এই বড় সিদ্ধান্তে কোন সমীকরণের ইঙ্গিত

ঢাকা ও দিল্লি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের। আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তিনি। তবে এই মেগা অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না। তাঁর পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে ঢাকা যাচ্ছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সঙ্গে থাকছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রি।

কেন ঢাকা যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী মোদী?

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর বাতিল হয়েছে। ওই দিন মুম্বইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। এ ছাড়াও দিল্লিতে আসন্ন ‘এআই সামিট’-এর প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণী কাজে ব্যস্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মোদী নিজে না গেলেও ওম বিড়লার মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বকে পাঠানো বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি দিল্লির ইতিবাচক বার্তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের মসনদে ‘তারেক যুগ’ এবং ভারতের অবস্থান

২০২৪ সালের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৩তম সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি। ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় লন্ডনে কাটিয়ে ২০২৫-এর ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর থেকেই শুরু হয় নতুন সমীকরণ। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে এখন তিনি বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ওম বিড়লার এই অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অটল বন্ধুত্বেরই প্রমাণ। প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানাচ্ছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এখন দিল্লির অন্যতম অগ্রাধিকার।

মমতার শুভেচ্ছা এবং জামাত কাঁটা

তারেক রহমানের এই বিশাল জয়ে ইতিমধ্যেই ফুল ও মিষ্টি পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সীমান্তের ওপারে উত্তেজনার পারদও কম নয়। জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত সংলগ্ন আসনগুলোতে জামাত প্রার্থীদের দাপট লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের ৬টি সীমান্তবর্তী জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন।

প্রথা ভেঙে সংসদ চত্বরে শপথ

সাধারণত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনে (রাষ্ট্রপতি ভবন) হয়ে থাকে। তবে এবার প্রথা ভেঙে জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের সাউথ প্লাজায় এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তারেক রহমান ও তাঁর নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির স্পষ্ট জানিয়েছেন, পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের একযোগে কাজ করা উচিত। হাসিনা পরবর্তী জমানায় ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে ওম বিড়লার সফর নিশ্চিতভাবেই দুই দেশের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *