মার্কিন ট্রেড ডিলে বিপাকে ভারতের কৃষকরা? মোদীকে সরাসরি ৫ প্রশ্নে বিঁধলেন রাহুল গান্ধী

নয়াদিল্লি: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এবার রণংদেহি মেজাজে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, এই চুক্তির আড়ালে আসলে ভারতীয় কৃষকদের সঙ্গে চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হচ্ছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে সরাসরি পাঁচটি কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে এই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
রাহুল গান্ধীর পাঁচটি বিস্ফোরক প্রশ্ন
১. দুধ উৎপাদনে মার্কিন নির্ভরতা: আমেরিকা থেকে ডিডিজি (DDG) আমদানির অর্থ কি ভারতীয় গবাদি পশুকে জিএম (জেনেটিক্যালি মডিফাইড) ভুট্টা খাওয়ানো? এর ফলে কি আমাদের দুগ্ধ শিল্প মার্কিন কবজায় চলে যাবে না?
২. সয়াবিন চাষিদের ভবিষ্যৎ: জিএম সয়াবিন তেল আমদানির অনুমতি দিলে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের সয়াবিন চাষিরা কীভাবে বাজারের ধকল সামলাবেন?
৩. গোপন পণ্যের তালিকা: ‘অ্যাডিশনাল প্রোডাক্টস’ বা অতিরিক্ত পণ্যের তালিকায় আর কী কী রয়েছে? ডাল বা অন্যান্য ফসল আমদানির জন্যও কি তলে তলে রাস্তা খোলা হচ্ছে?
৪. এমএসপি-তে কোপ: নন-ট্রেড ব্যারিয়ার সরানোর চাপে কি ভবিষ্যতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) বা বোনাস কমিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটবে সরকার?
৫. দীর্ঘমেয়াদী বিপদ: একবার এই দরজা খুলে গেলে প্রতি বছর নতুন নতুন ফসলের বাজার কি বিদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না?
বিপক্ষে ভারত বনধ ও সরকারের সাফাই
উল্লেখ্য, এই চুক্তির প্রতিবাদে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ‘ভারত বনধ’-এর ডাক দিয়েছিল বিরোধী দল ও কৃষক সংগঠনগুলো। সংসদের ভেতরেও এই নিয়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও অমিত শাহ বিরোধীদের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতের বস্ত্র শিল্পে ৪৫,০০০ কোটি টাকার নতুন বাজার তৈরি হবে এবং কৃষকদের স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।
চুক্তির মূল বিষয়গুলো কী কী?
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত বেশ কিছু মার্কিন শিল্প ও কৃষিপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাবে। পরিবর্তে জ্বালানি, আইটি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ডিজিটাল পরিষেবা কর এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়েও দু-দেশের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর দাবি, এই চুক্তি কেবল আজকের বিষয় নয়, এটি ভারতের কৃষি সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। মার্কিন আধিপত্যের সামনে দেশের কৃষকদের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।