দিল্লিতে জমি জালিয়াতি রুখবে ১৪ সংখ্যার ভূ আধার কার্ড

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দিল্লিতে জমি সংক্রান্ত নথিপত্রে স্বচ্ছতা আনতে এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন। এখন থেকে রাজধানীর প্রতিটি জমির জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র বা ‘ভূ আধার’ তৈরি করা হবে।
কী এই ভূ আধার বা ইউএলপিআইএন?
কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিটি প্লট বা ভূখণ্ডের জন্য একটি ১৪ সংখ্যার ইউনিক ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ULPIN) বরাদ্দ করা হবে। এটি অনেকটা মানুষের আধার কার্ডের মতোই জমির ডিজিটাল পরিচয় হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
- ডিজিটাল নিরাপত্তা: জমির সমস্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে, ফলে নথিপত্র হারানোর ভয় থাকবে না।
- জালিয়াতি রোধ: একই জমি একাধিকবার বিক্রি বা ভুয়ো মালিকানা দেখানোর সুযোগ বন্ধ হবে।
- সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি: ড্রোন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জমির সঠিক মাপ নির্ধারণ করা হবে, যা সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কমাবে।
- সহজ লভ্যতা: নাগরিকরা শুধুমাত্র এই ১৪ সংখ্যার কোড ব্যবহার করেই তাদের জমির যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় পেয়ে যাবেন।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া:
দিল্লি সরকারের রাজস্ব বিভাগ এবং সার্ভে অফ ইন্ডিয়া যৌথভাবে এই কাজটি করছে। অত্যাধুনিক ড্রোন ইমেজ এবং ২ টেরাবাইট উচ্চমানের জিও-স্পেশিয়াল ডেটা ব্যবহার করে নিখুঁত ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। পশ্চিম দিল্লির তিলাংপুর কোটলা গ্রামে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইতিমধ্যেই ২৭৪টি জমির রেকর্ড সফলভাবে তৈরি করা হয়েছে। এবার ধাপে ধাপে পুরো দিল্লিতে এই পরিষেবা চালু হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভিশনকে সফল করতে এই ‘ভূ আধার’ সাধারণ মানুষের সারাজীবনের সঞ্চয়ে কেনা জমিকে আইনি সুরক্ষা দেবে এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।