১৫ বছরের প্রেমে রক্তক্ষয়ী পরিণতি! নয়ডায় যুগলের মৃত্যুর নেপথ্যে কি তবে শুধুই পরকীয়া নাকি গভীর কোনো ষড়যন্ত্র
নয়ডা: ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র আবহে নয়ডায় উদ্ধার হওয়া যুগলের রক্তাক্ত দেহ ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ এখন তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ১৫ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশই এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
দিল্লির বাসিন্দা সুমিত এবং নয়ডার তরুণী রেখা শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার নয়ডার সেক্টর ১০৭-এ রাস্তার ধারে একটি পরিত্যক্ত গাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়। সুমিতের হাতে ছিল পিস্তল এবং দু’জনেরই মাথায় গুলির ক্ষত চিহ্ন মিলেছে।
তদন্তে নয়া তথ্য
তদন্তকারীরা সুমিতের মোবাইল থেকে একটি চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ উদ্ধার করেছেন। শুক্রবার বিকেলে টাইপ করা সেই মেসেজে সুমিত দাবি করেছেন, রেখা অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই বিশ্বাসভঙ্গ সহ্য করতে না পেরেই চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
- সুমিতের পরিবার: তাঁদের দাবি এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি এবং জাতিবিদ্বেষের তত্ত্বও খাড়া করছেন তাঁরা।
- রেখার পরিবার: তাঁদের অভিযোগ, সুমিত দীর্ঘদিন ধরে রেখাকে হেনস্থা করতেন। ভিনজাতের সুমিতের বদলে রেখার বিয়ে অন্য জায়গায় ঠিক হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন সুমিত।
এই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজটি ড্রাফট ছিল নাকি কাউকে পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ত্রিভুজ প্রেমের টানাপড়েন নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সামাজিক শত্রুতা, তা জানতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।