ইরানের তেল বিক্রিতে তালা ঝোলাতে চলেছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

ইরানের তেল বিক্রিতে তালা ঝোলাতে চলেছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

তেহরানের ‘তেল-ভাণ্ডার’ রুখতে একজোট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হোয়াইট হাউসে দুই নেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উঠে এল ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার মাস্টারপ্ল্যান। এই কৌশলের মূল লক্ষ্যই হলো চিনে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করা।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ছক ও বেজিংয়ের ভূমিকা

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এবার সরাসরি চিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চলেছে। বর্তমানে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই কেনে চিন। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, শি জিনপিংয়ের দেশ প্রতিদিন প্রায় ১৩.৮ লক্ষ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করছে। এই বিশাল অর্থের জোগান বন্ধ করতেই পুতিনের রাশিয়ার ওপর প্রয়োগ করা ‘ট্যারিফ মডেল’ এবার ইরানের ওপর কার্যকর করতে চাইছেন ট্রাম্প।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ

  • পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পরমাণু প্রকল্পের রাশ টানতে তাদের আয়ের প্রধান উৎস তেলের বাজার ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প।
  • ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ: ইরানে ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে চলমান গণ-আন্দোলনকে পরোক্ষে সমর্থন দিচ্ছে আমেরিকা। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই অর্থনৈতিক অবরোধের পরিকল্পনা।
  • তৃতীয় দেশের মাধ্যম: অভিযোগ রয়েছে, ইরান সরাসরি তেল না পাঠিয়ে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার নাম ব্যবহার করে চিনে তেল পাঠায়। এই ‘ছায়া বাণিজ্য’ রুখতে এবার কড়া নজরদারি চালাবে ওয়াশিংটন।

বেজিং অবশ্য এই পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছে। তবে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জুটির এই নতুন সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় ঝড়ের সংকেত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *