প্যারামেডিক্যাল কোর্সের নামে কোটি টাকার জালিয়াতি নাকি চক্রান্ত শিলিগুড়িতে গ্রেফতার ৭

শিলিগুড়িতে একটি প্যারামেডিক্যাল প্রশিক্ষণ সংস্থাকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার তিন ডিরেক্টর, অধ্যক্ষ এবং দুই মহিলা কর্মীসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক দুই মহিলার জেল হেফাজত এবং বাকিদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। দার্জিলিংয়ের এক ছাত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট।
অভিযোগকারী ছাত্রীর দাবি, প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও নথিপত্রে সেটিকে ভোকেশনাল ট্রেনিং হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অসঙ্গতি সামনে আসতেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সংস্থাটি কোর্সের বৈধতা সংক্রান্ত পর্যাপ্ত নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর মতে, উচ্চশিক্ষার নামে ভোকেশনাল কোর্স করিয়ে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর নেপথ্যে বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সংস্থা কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। এদিন আদালত চত্বরে সংস্থার সমর্থনে প্রায় ৩০-৩৫ জন পড়ুয়া বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, তাঁরা জেনেশুনেই ভোকেশনাল কোর্সে ভর্তি হয়েছেন এবং অনেকেই এই প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্ররোচনায় এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে বলেও সংস্থার কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন। বর্তমানে এই দ্বিমুখী দাবির ফলে শিক্ষা মহলে ধন্দ তৈরি হয়েছে, যার কিনারা করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।