মমতার যুবসাথী প্রকল্পে প্রথম দিনেই রেকর্ড আবেদন জমা পড়ল জেলায় জেলায়

NEWS DESK : রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘিরে অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। রবিবার প্রকল্পটির জন্য বিশেষ শিবির চালু হতেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল কিংবা গঙ্গাসাগর—সর্বত্রই স্বনির্ভর বাংলা শিবিরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দিনেই রাজ্যজুড়ে আয়োজিত ৭৬৯টি শিবিরে মোট ৬ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার জনই আবেদন করেছেন যুবসাথী প্রকল্পের জন্য। বাকিরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও খেতমজুরদের আর্থিক সহায়তার খোঁজ নিয়েছেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে এই নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। মূলত ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের চাকরির প্রস্তুতি বা স্বনির্ভর হওয়ার লড়াইয়ে আর্থিক সাহায্য দিতেই এই উদ্যোগ। এপ্রিল মাস থেকে এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে অনুদান পাবেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিশেষ আবেদন শিবিরগুলি চলবে। আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রতিটি শিবিরে পর্যাপ্ত কাউন্টার এবং সরকারি আধিকারিকদের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র নিয়ে আসা আবেদনকারীদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে।
এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক আশা তৈরি হয়েছে। কেউ এই টাকায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বই কিনতে চান, আবার কেউ পরিবারের চিকিৎসার খরচ চালাতে আগ্রহী। কালিম্পং থেকে উত্তর কলকাতা—আবেদনকারীদের মতে, এই মাসিক ভাতা তাঁদের পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতির পথে বড়সড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়াবে। জেলাশাসক থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা দিনভর শিবিরের তদারকি করেছেন। জমা পড়া আবেদনগুলো দ্রুত যাচাইয়ের জন্য পোর্টালে তোলার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে, যাতে এপ্রিলের মধ্যেই উপভোক্তাদের কাছে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।