ট্রেনের জেনারেল কামরায় মিলবে ফার্স্ট ক্লাসের মতো ঝকঝকে পরিষেবা

NEWS DESK : সাধারণ রেল যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে এবার এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেনের জেনারেল কামরার ভোল বদলে ফেলতে চলেছে ভারতীয় রেল। এতদিন বাতানুকূল বা ফার্স্ট ক্লাসের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হলেও, এখন থেকে সাধারণ বগির শৌচালয় পরিষ্কার করা হবে ঠিক উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানদণ্ড মেনেই। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ট্রেনের শৌচালয় ঠিকঠাক পরিষ্কার হচ্ছে কি না, তা তদারকি করবে আধুনিক ‘এআই ইমেজ’ প্রযুক্তি। সাফাইয়ের পর সেই ছবি সরাসরি পৌঁছে যাবে রেলের কন্ট্রোল রুমে। যদি নির্ধারিত মান বজায় না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
রেল মন্ত্রকের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইটিআই ডিপ্লোমাধারী সুপারভাইজারের অধীনে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার করে জেনারেল কোচের শৌচালয় সাফাই করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত শ্রেণির কর্মীরাই নির্দিষ্ট স্টেশনের ব্যবধানে নেমে এই সাধারণ বগিগুলো পরিষ্কার করবেন। তবে এই উন্নত পরিষেবার জন্য যাত্রীদের পকেটে কোনো বাড়তি চাপ পড়বে না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছে মন্ত্রক। রেলের দাবি, আধুনিকীকরণের এই বিপুল খরচ তারা নিজেরাই বহন করবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৮০টি গুরুত্বপূর্ণ মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে এই পাইলট প্রজেক্ট চালু করা হচ্ছে।
পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ট্রেনের ‘লিনেন’ বা চাদর-বালিশের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনছে রেল। আগে একাধিক সংস্থা বিচ্ছিন্নভাবে ধোয়া বা সরবরাহের কাজ করলেও, এখন থেকে একটিমাত্র সংস্থাকে সামগ্রিক দায়িত্ব দেওয়া হবে যাতে সেবার মান উন্নত হয়। মূলত সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত যাত্রীদের রেল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫২ সপ্তাহে ৫২টি সংস্কারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে দাবি করছে কেন্দ্র। এর ফলে দূরপাল্লার যাত্রায় সাধারণ বগির যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটি আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের নিচে আন্ডার-ওয়াটার টানেল নির্মাণের সবুজ সংকেত দিয়েছে। এছাড়া দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক সহ একাধিক রাজ্যে ১২টি নতুন রেল প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং ট্রেনের অভ্যন্তরীণ পরিষেবা আধুনিকীকরণের মাধ্যমে রেল ভ্রমণের সংজ্ঞাই বদলে দিতে চাইছে সরকার। সাধারণ যাত্রীরা যাতে আভিজাত্যের ছোঁয়া পান এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে যাতায়াত করতে পারেন, সেটিই এখন রেলের প্রধান লক্ষ্য।