পেনশন নিয়ে সংসদে ভুল তথ্য পেশের অভিযোগ, তোলপাড় প্রবীণ মহলে

পেনশন নিয়ে সংসদে ভুল তথ্য পেশের অভিযোগ, তোলপাড় প্রবীণ মহলে

এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (ইপিএস) নিয়ে সংসদে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যের পেশ করা পরিসংখ্যান ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এক বিরোধী সাংসদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশে ৪৭ লক্ষ ৪ হাজার ২৭০ জন উপভোক্তা ৯ হাজার টাকার কম পেনশন পান। সরকারি এই হিসাব সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রবীণ পেনশনভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, মন্ত্রীর দেওয়া এই তথ্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিহীন এবং পিএফ দপ্তরের নিজস্ব বার্ষিক রিপোর্টের তথ্যের তুলনায় চূড়ান্ত বিভ্রান্তিকর।

শ্রমমন্ত্রকের ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোট পেনশনভোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭৮ লক্ষ। যার মধ্যে সিংহভাগই মাসে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পান। পরিসংখ্যান বলছে, ৩৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ পান এক হাজার টাকার নিচে। অথচ মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, যদি ৪৭ লক্ষ মানুষ ৯ হাজার টাকার কম পান, তবে বাকি প্রায় ৩৩ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে তার বেশি টাকা ঢোকার কথা। আন্দোলনরত প্রবীণদের দাবি, বর্তমান পরিকাঠামোয় ৯ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া গুটিকতক মানুষের পক্ষে সম্ভব হলেও ৩৩ লক্ষ মানুষের ক্ষেত্রে তা আসাম্ভব।

ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির রাজ্য সভাপতি তপন দত্ত মন্ত্রীর এই দাবিকে ‘মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা বেতনের ভিত্তিতে পেনশন ফান্ডে টাকা জমা পড়ে। বিশেষ আবেদন ছাড়া একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পক্ষে ৫ হাজার ৬০০ টাকার বেশি পেনশন পাওয়া প্রায় আসাম্ভব। যেখানে বর্ধিত পেনশনের জন্য আবেদনকারী মাত্র ২ লক্ষ মানুষের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে, সেখানে ৩৩ লক্ষ মানুষের বর্ধিত পেনশন পাওয়ার দাবিটি অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বর্তমানে কয়েক লক্ষ প্রবীণ নাগরিক পেনশনের এই বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যানে রীতিমতো তাজ্জব হয়ে গেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি নথিতে যেখানে পেনশনের ঊর্ধ্বসীমা ৬ হাজার টাকা ছোঁয়াই দুষ্কর, সেখানে মন্ত্রী কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই ‘আজগুবি’ সংখ্যাতত্ত্ব সংসদে পেশ করলেন? কেন্দ্র যদি কৌশলে প্রমাণের চেষ্টা করে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ উচ্চহারে পেনশন পাচ্ছেন, তবে তা পেনশন বৃদ্ধির দীর্ঘকালীন আন্দোলনকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা বলেই মনে করছে প্রবীণদের সংগঠনগুলি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *