উন্নয়নের আগে নিরাপত্তা! পাড়ায় সমাধানে প্রতিটি মোড়ে বসছে সিসি ক্যামেরা

নবদ্বীপ: রাস্তাঘাট বা ড্রেন সংস্কার নয়, বরং এলাকাকে সুরক্ষিত রাখাই এখন নবদ্বীপের আমজনতার কাছে প্রধান লক্ষ্য। ‘পাড়ায় সমাধান’ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সেই ইচ্ছাকেই মান্যতা দিয়ে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। এখন থেকে নবদ্বীপের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং মঠ-মন্দিরের সামনে থাকবে কড়া নজরদারি।
উন্নয়ন নাকি নিরাপত্তা— এই প্রশ্নে স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাস্তা বা নালা সংস্কারের কাজ কয়েক দিন পরে হলেও ক্ষতি নেই, তবে আগে চাই নিরাপত্তা। বাসিন্দাদের এই নজিরবিহীন দাবি মেনে নিয়েছে নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতি। প্রতিটি বুথের জন্য বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকার বড় অংশই এখন ব্যয় করা হচ্ছে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজে।
নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েত এলাকার ২৮টি বুথের মধ্যে ২২টি বুথেই বাসিন্দাদের সম্মতিতে এই কাজ শুরু হয়েছে। ডাকঘর পাড়া, সুরভিকুঞ্জ, ভাগীরথী বিদ্যাপীঠ পাড়া থেকে শুরু করে চরস্বরূপগঞ্জ ও তিওরখালি পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার জালে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। এই উদ্যোগে সবথেকে বেশি খুশি স্থানীয় মঠ-মন্দিরের সাধু-সন্ত থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহবধূরা। আসন্ন দোল উৎসবের কথা মাথায় রেখে পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত এই ক্যামেরাগুলো বসানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
স্থানীয়দের মতে, দোল পূর্ণিমার সময় নবদ্বীপে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। সেই সময় মঠ-মন্দিরের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে এই ক্যামেরাগুলো বড় ভূমিকা পালন করবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ জানান, এই নজরদারি ব্যবস্থার ফলে অপরাধীদের চিহ্নিত করা অনেক সহজ হবে এবং এলাকায় দুষ্কৃতীদের দাপট কমবে।
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অমল সরকার এবং পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তাপস ঘোষ জানিয়েছেন, স্থানীয় মানুষের চাহিদাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নবদ্বীপ এখন অনেক বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ হয়ে উঠছে।