একদিনের জন্য থামবে যুদ্ধ! ইউক্রেনে ভোটের দিন হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিল পুতিন প্রশাসন

রাশিয়া ও ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে এবার এক নাটকীয় মোড়। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন রুশ বার্তা সংস্থা তাস (TASS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, যদি ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, তবে ভোটের দিন কোনো রকম আকাশপথে হামলা চালাবে না মস্কো। পুতিন প্রশাসন চায় ইউক্রেনের মানুষ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করুক। তবে প্রশ্ন উঠছে, ২০২২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ভলোদিমির জেলেনস্কি কি আদেও এখন নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত?
জেলেনস্কির পাল্টা চাল এবং সিজফায়ারের দাবি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অবশ্য নির্বাচন না করার পেছনে নিরাপত্তা, লজিস্টিকস এবং আইনি জটিলতার কথা বারবার বলে আসছেন। সম্প্রতি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতি বা ‘সিজফায়ার’-এ রাজি হয়, তবেই ইউক্রেন নির্বাচনের পথে হাঁটতে পারে। জেলেনস্কির কথায়, “আমরা শান্তি চাই। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে পারেন, তবে পার্লামেন্ট আইন সংশোধন করবে এবং আমরা ভোটের দিকে এগোব।”
রাশিয়ার অভিযোগ ও ইউক্রেনের গণতান্ত্রিক অধিকার
রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গালুজিন অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে যখন রাশিয়ায় নির্বাচন হয়েছিল, তখন ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালিয়ে ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রাশিয়া তেমনটা করবে না। তিনি দাবি করেন, মস্কো ইউক্রেনের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেবে না, যদি কিয়েভ প্রশাসন নির্বাচনের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মূলত জেলেনস্কির ওপর ‘ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার’ যে অভিযোগ ক্রেমলিন বারবার তুলছে, এই প্রস্তাব তাকে আরও জোরালো করল।
জেনেভায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক এবং শান্তির সম্ভাবনা
আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইউক্রেন, রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। সেখানে যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেনের সম্ভাব্য নির্বাচন নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাশিয়ার এই ‘ভোটের দিন হামলা নয়’ প্রস্তাবের বিনিময়ে জেলেনস্কি নির্বাচনের ঝুঁকি নেন কি না।