এলিয়েন কি সত্যি আছে? এরিয়া ৫১ নিয়ে মুখ খুললেন বারাক ওবামা

এলিয়েন কি সত্যি আছে? এরিয়া ৫১ নিয়ে মুখ খুললেন বারাক ওবামা

মহাকাশে কি আমরা সত্যিই একা? নাকি আমাদের অজান্তেই ভিনগ্রহের প্রাণীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর আকাশে? বছরের পর বছর ধরে চলা এই রহস্যের জালে এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এক সাক্ষাৎকারে এলিয়েন এবং রহস্যময় সামরিক ঘাঁটি ‘এরিয়া ৫১’ (Area 51) নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি, যা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে।

এলিয়েন নিয়ে ওবামার স্বীকারোক্তি

ইউটিউবার ব্রায়ান টাইলার কোয়েনের সাথে এক আলাপচারিতায় ওবামা সরাসরি জানান, আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালস ফেনোমেনা (UAP) বা যা সাধারণ মানুষের কাছে UFO নামে পরিচিত, তা বাস্তব। তিনি স্বীকার করেন যে আকাশে এমন কিছু বস্তুর ফুটেজ এবং রেকর্ড রয়েছে যা বিজ্ঞানের চেনা ছকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ওবামা বলেন, “তারা সত্যি… তবে আমি নিজে তাদের দেখিনি।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে এই রহস্যময় যানগুলোর গতিবিধি এবং কৌশল অত্যন্ত উন্নত, যা বর্তমান মানব প্রযুক্তির ঊর্ধ্বে।

এরিয়া ৫১ এবং ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব

আমেরিকার নেভাদা মরুভূমিতে অবস্থিত গোপন সামরিক ঘাঁটি ‘এরিয়া ৫১’ নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। অনেকেই বিশ্বাস করেন, সেখানে এলিয়েনদের মৃতদেহ কিংবা তাদের ভেঙে পড়া মহাকাশযান লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ওবামা এই ধরণের ‘কনস্পিরেসি থিওরি’ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানান, এরিয়া ৫১-এ কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা গোপন এলিয়েন ল্যাব নেই। দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন সরকার এই ঘাঁটির অস্তিত্ব অস্বীকার করলেও ২০১৩ সালে প্রথমবার এর সত্যতা স্বীকার করা হয়। মূলত এটি উন্নত সামরিক এয়ারক্রাফট পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত একটি ক্ষেত্র।

পেন্টাগনের তৎপরতা ও আইন

এলিয়েন বা ইউএফও নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের মাঝে মার্কিন প্রশাসনও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ। পেন্টাগন ইতিমধ্যেই ‘অল-ডোমেন অ্যানোমলি রেজোলিউশন অফিস’ (AARO) গঠন করেছে। এর কাজ হলো বিভিন্ন সময়ে আকাশে দেখা যাওয়া রহস্যময় বস্তুগুলোর তদন্ত করা। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসও এমন আইন পাস করেছে যার মাধ্যমে সরকারকে এই সংক্রান্ত গোপন তথ্য জনসাধারণের সামনে আনতে হবে।

বিজ্ঞানের চোখে ভিনগ্রহের জীবন

যদিও ওবামা এলিয়েনদের অস্তিত্ব নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে প্রাণের কোনো অকাট্য প্রমাণ পাননি। তবে অনুসন্ধান থেমে নেই। ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া ‘SETI@Home’ প্রজেক্টের মাধ্যমে কোটি কোটি ভলান্টিয়ার মহাকাশ থেকে আসা রেডিও সিগন্যাল বিশ্লেষণ করছেন। পুয়ের্তো রিকোর আরেসিবো অবজারভেটরির তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা প্রায় ১২ বিলিয়ন কৌতূহল উদ্দীপক সিগন্যাল শনাক্ত করেছেন। ২০২০ সালে এই টেলিস্কোপটি ভেঙে পড়লেও সংগৃহীত ডেটা নিয়ে এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা।

মহাবিশ্বের বিশালতায় আমরা একা কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে। তবে বারাক ওবামার এই মন্তব্য এলিয়েন শিকারিদের মনে নতুন করে আশার আলো জুগিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *