ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ কি আসন্ন, নাকি শুধুই জল্পনা! সরাসরি মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

NEWS DESK : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, সেই বহুচর্চিত প্রশ্নের এবার সরাসরি জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশ এখন যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করে তোলা, যাতে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের নিরাপত্তা অটুট থাকে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ কি যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ? এই প্রশ্নের ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি কোনো সাময়িক পদক্ষেপ নয়, বরং সামরিক আধুনিকীকরণের একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার অংশ। বিশেষত প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি বড় অংশ দেশীয় শিল্পের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যা আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য ভারতীয় সেনাদের সাহস ও কৌশলগত সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে প্রমাণ করেছে। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের বাহিনীকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তাঁর মতে, নিরাপত্তা কোনো এককালীন প্রচেষ্টা নয়, এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। বিগত এক দশকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে সংস্কারগুলি আনা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য তারই প্রতিফলন।
পরিশেষে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মোদী সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই সেনাদের সুযোগ-সুবিধা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। ‘এক পদ এক পেনশন’ থেকে শুরু করে রেকর্ড পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ—সবই দেশের সীমান্ত রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে উস্কানি নয়, বরং জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সুপরিকল্পিত ঢাল।