নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ বাংলার ৭ দুঁদে অফিসারের বিরুদ্ধে

NEWS DESK : গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলার সাতজন নির্বাচনী আধিকারিককে (AERO) অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩সিসি ধারার অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই পদক্ষেপ করেছে কমিশন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পুরো বিষয়টি কমিশনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সাসপেনশন তালিকার আওতায় রয়েছেন ক্যানিং পূর্বের দুই জন, সুতি, ময়নাগুড়ি, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ এবং ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের এআরও-রা। কমিশনের অভিযোগ, এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে এই আধিকারিকরা চূড়ান্ত গাফিলতি করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে অসঙ্গতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া বজায় রাখতেই এই কঠোর অবস্থান বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এর আগে রাজ্যের চার আধিকারিক যথাক্রমে তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় ‘ভুতুড়ে’ ভোটারদের নাম বেআইনিভাবে তোলার অভিযোগ ছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে সাত অফিসারের সাসপেনশন প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত ‘ফর্ম ৭’ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। সোমবারের মধ্যেই সিইও (CEO) ও ডিইও (DEO) দপ্তরে জমা পড়া সমস্ত ফর্ম ৭ নিষ্পত্তি করার জন্য ইআরও (ERO) এবং এআরও-দের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটার তালিকার ভুল সংশোধন করতে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছে কমিশন।