২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণে আকাশে বিরল আগুনের আংটি, ভারতে কি এর কোনো প্রভাব পড়বে

আজ মঙ্গলবার ফাল্গুন মাসের দর্শ অমাবস্যা তিথিতে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। মহাজাগতিক নিয়ম মেনে চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে, তখনই ঘটে এই গ্রহণ। তবে এবারের গ্রহণটি সাধারণ কোনো গ্রহণ নয়, এটি একটি ‘বলয়গ্রাস’ সূর্যগ্রহণ। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘রিং অফ ফায়ার’। এই বিশেষ মুহূর্তে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না, ফলে সূর্যের বাইরের অংশটি একটি উজ্জ্বল আগুনের আংটির মতো দৃশ্যমান হয়।
গ্রহণের সময়সূচি ও কক্ষপথ
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, আজ দুপুর ৩টে ২৬ মিনিট নাগাদ এই গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে গ্রহণটি তার পূর্ণ দশায় বা চরম শিখরে পৌঁছাবে। এরপর ধীরে ধীরে গ্রহণমুক্ত হয়ে রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে এই মহাজাগতিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটবে। জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, কুম্ভ রাশিতে ধনিষ্ঠা নক্ষত্রের প্রভাবে এই গ্রহণ সংঘটিত হচ্ছে।
ভারত থেকে কি দেখা যাবে এই দৃশ্য
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য কিছুটা মন খারাপের খবর হলো, এই বিরল ‘রিং অফ ফায়ার’ ভারত থেকে দেখা যাবে না। এটি মূলত দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে দৃশ্যমান হবে। অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মরিশাস এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে এই গ্রহণ স্পষ্ট দেখা যাবে। এশিয়া, ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ নেই।
সূতক কাল ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ
সাধারণত সূর্যগ্রহণের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে সূতক কাল শুরু হয়, যে সময়টিকে হিন্দু ধর্মে অশুভ মনে করা হয় এবং মন্দির বা শুভ কাজে নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে দৃক পপঞ্চাঙ্গের বিধান অনুযায়ী, যেহেতু এই গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়, তাই এ দেশে এর কোনো ধর্মীয় প্রভাব বা সূতক কাল কার্যকর হবে না। এদিন ভারতের নাগরিকরা স্বাভাবিকভাবেই পূজা-পাঠ, শুভ কাজ বা দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারবেন। মন্দির খোলা থাকবে এবং কোনো বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে না।
জ্যোতিষীয় যোগ ও পঞ্জিকার অবস্থান
১৭ ফেব্রুয়ারি অমাবস্যা তিথি থাকছে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এরপর নক্ষত্রের ফেরে রাত ৯টা ১৬ মিনিটের পর শতভিষা নক্ষত্র শুরু হবে। আজ চন্দ্র মকর রাশিতে অবস্থান করছে। দিনের শুভ সময়ের মধ্যে রয়েছে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত অভিজিৎ মুহূর্ত এবং বিকেল ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৬টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত গোধূলি মুহূর্ত। তবে দুপুর ৩টে ২৪ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ৪৮ মিনিট পর্যন্ত রাহুকাল থাকবে, এই সময়টুকু কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু না করাই শ্রেয়।
বিস্ময়কর এই ‘রিং অফ ফায়ার’ দেখার সুযোগ সরাসরি না থাকলেও, প্রযুক্তির কল্যাণে বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।