পুরুষের শরীর থেকে রহস্যজনকভাবে কমছে ওয়াই ক্রোমোজোম বাড়ছে মরণব্যাধির ঝুঁকি

NEWS DESK : পিতার কাছ থেকে পাওয়া ওয়াই ক্রোমোজোমই নির্ধারণ করে পুরুষের লিঙ্গ। দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, লিঙ্গ নির্ধারণ এবং শুক্রাণুর কার্যকারিতা বাড়ানো ছাড়া এই ক্রোমোজোমের বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই। এমনকি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে এই ক্রোমোজোম বিলুপ্ত হয়ে গেলেও স্বাস্থ্যের ওপর তেমন প্রভাব পড়ে না বলেই মনে করা হতো। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, পুরুষদের দেহকোষ থেকে ওয়াই ক্রোমোজোম হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একাধিক গুরুতর রোগের শিকড়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সি পুরুষদের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ৯০ বছর বয়সিদের ৫৭ শতাংশের দেহকোষ থেকে এই ক্রোমোজোম উধাও হয়ে যায়। ধূমপান এবং রাসায়নিকের সংস্পর্শ এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কোষ থেকে একবার ওয়াই ক্রোমোজোম বিদায় নেয়, সেখানে তা আর ফিরে আসে না। বরং এই ওয়াই-বিহীন কোষগুলো শরীরের অন্যান্য স্বাভাবিক কোষের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্রোমোজোমের অনুপস্থিতি সরাসরি হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং অ্যালঝাইমার্সের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। জার্মান এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ওয়াই ক্রোমোজোম হারানো বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের প্রবণতা অনেক বেশি। এমনকি ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এই ক্রোমোজোমের অভাব চিকিৎসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওয়াই-বিহীন রক্তকণিকা শরীরে প্রবেশ করালে দ্রুত বার্ধক্যজনিত উপসর্গ এবং হৃদযন্ত্রের বিকলতা দেখা দেয়।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ওয়াই ক্রোমোজোমের ভেতরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু জিন ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। ফলে শরীর থেকে এই রক্ষাকবচ হারিয়ে গেলে পুরুষদেহ বিভিন্ন জটিল অসুখের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যদিও এই বিলুপ্তির সঠিক কারণ এবং প্রতিকার নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবে প্রাথমিক ফলাফল পুরুষদের বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এক সময়ের ‘গুরুত্বহীন’ মনে করা এই ক্রোমোজোমই এখন পুরুষদের দীর্ঘায়ু হওয়ার পথে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।